২৪/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৮৬২ - আবু যার রাঃ ও আনুগত্যের শিক্ষা
ইমামের আনুগত্য করা
আবু যার রাঃ-এর ঘটনা: নেতার আনুগত্যে বিনয় ও বাস্তব শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৮৬২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৮৬২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى الرَّبَذَةِ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَإِذَا عَبْدٌ يَؤُمُّهُمْ فَقِيلَ هَذَا أَبُو ذَرٍّ . فَذَهَبَ يَتَأَخَّرُ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ أَوْصَانِي خَلِيلِي ﷺ أَنْ أَسْمَعَ وَأُطِيعَ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا مُجَدَّعَ الأَطْرَافِ.
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি যখন (নির্বাসনে) রাবাযা নামক স্থানে পৌছালেন তখন নামাযের একামত হচ্ছিল। এক ক্রীতদাস লোকেদের নামাযে ইমামতি করছিল। (তাকে) বলা হলো, ইনি আবূ যার(রাঃ)। (এ কথায়) ক্রীতদাস পেছনে সরে আসতে উদ্যত হলে আবূ যার (রাঃ) তাকে বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু মহানবী (ﷺ) আমাকে ওসীয়াত করেছেনঃ আমি যেন (নেতৃ-আদেশ) শ্রবণ করি ও আনুগত্য করি, যদিও সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত কাফ্রী ক্রীতদাস হয়।
[২৮৬২] আহমাদ ২০৯১৮, ২০৯৯০, মুসলিম ১৮৬৭, আয-যিলাল ১০৫১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৮৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু যার (রাঃ)-এর একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। তিনি রাবাযা নামক স্থানে পৌঁছে দেখলেন, এক ক্রীতদাস লোকদের নামাজে ইমামতি করছে। লোকটি আবু যার (রাঃ)-কে দেখে পেছনে সরে যেতে চাইলে তিনি তাকে থামালেন। আবু যার (রাঃ) বললেন, তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ওসিয়ত করেছেন—শুনতে ও আনুগত্য করতে, যদিও নেতা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত হাবশি ক্রীতদাস হয়। এই ঘটনা শুধু কথার শিক্ষা নয়, কাজে দেখানো শিক্ষা। এখানে নেতৃত্ব, ইমামতি, বিনয় এবং মুসলিম শৃঙ্খলার সুন্দর দৃষ্টান্ত আছে। বড় সাহাবি হয়েও তিনি নিজ মর্যাদা সামনে আনেননি; বরং নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর উপদেশ সাহাবিরা বাস্তব জীবনে পালন করতেন।
- ইমাম বা নেতা সাধারণ অবস্থার মানুষ হলেও বৈধ নেতৃত্বে তাকে সম্মান করা উচিত।
- নিজ মর্যাদা দেখিয়ে শৃঙ্খলা ভাঙা ইসলামী শিক্ষার সাথে মেলে না।
