২৫/৪৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯৮৬ - সাফা-মারওয়ার সাঈর গুরুত্ব
সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করা (দৌড়ানো)
সাফা-মারওয়ার সাঈ: হজ্জ ও উমরার গুরুত্বপূর্ণ আমল
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৯৮৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৯৮৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، قُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا أَرَى عَلَىَّ جُنَاحًا أَنْ لاَ أَطَّوَّفَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ .قَالَتْ إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا﴿ وَلَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ لَكَانَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا. إِنَّمَا أُنْزِلَ هَذَا فِي نَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ كَانُوا إِذَا أَهَلُّوا أَهَلُّوا لِمَنَاةَ فَلاَ يَحِلُّ لَهُمْ أَنْ يَطَّوَّفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا قَدِمُوا مَعَ النَّبِيِّ ـ ﷺ ـ فِي الْحَجِّ ذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَأَنْزَلَهَا اللَّهُ فَلَعَمْرِي مَا أَتَمَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَجَّ مَنْ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা আমাকে অবহিত করে বলেছেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম, আমি যদি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করি তবে তা আমার জন্য দূষণীয় মনে করি না।তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ বলেছেনঃ “সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অতএব যে কেউ কাবা ঘরের হজ অথবা উমরা সম্পন্ন করে, এই দু’টির মাঝে সাঈ করলে তার কোনো পাপ নেই” (সূরা বাকারা: ১৫৮)।আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তুমি যেরূপ বুঝেছ যদি তাই হত তবে এভাবে বলা হতঃ “তবে এ দু’টির মাঝে সাঈ না করলে তার কোনো গুনাহ নেই”।উপরোক্ত আয়াত আনসার সম্প্রদায়ের কতক লোকের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তারা যখন ইহরাম বাঁধতো (জাহিলি যুগে) মানাত দেবতার উদ্দেশ্যে বাঁধতো। তাই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা (তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী) তাদের জন্য হালাল ছিলো না। তারা (ইসলামোত্তর যুগে) মহানবী (ﷺ)-এর সাথে হজ করতে এসে বিষয়টি তাঁর সামনে উত্থাপন করলে তখন আল্লাহ তাআলা উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন। (আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমার জীবনের শপথ! যে ব্যক্তি হজ করতে এসে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করবে না মহান আল্লাহ তার হজ পূর্ণ করবেন না।
[২৯৮৬] সহীহুল বুখারী ১৬৪৩, ১৭৯০, ৪৪৮৫, ৪৮৬১, মুসলিম ১২৭৭, তিরমিযী ২৯৬৫, নাসায়ী ২৯৬৭, ২৯৬৮, আবূ দাউদ ২৯০১, আহমাদ ২৪৫৮৮, ২৪৭৭০, ২৫৩৭৭, মুয়াত্তা মালেক ৮৩৮, ইরওয়া ১০৭১, সহীহ আবু দাউদ ১৬৫৯। তাহকীক আলবানী: সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাফা-মারওয়ার সাঈ নিয়ে একটি ভুল বোঝাবুঝি দূর করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি আয়িশা (রাঃ)-কে বলেন, তিনি মনে করেন সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলেও সমস্যা নেই। আয়িশা (রাঃ) সূরা বাকারার আয়াত তুলে ধরে বুঝিয়ে দেন, আয়াতের অর্থ সাঈ বাদ দেওয়ার অনুমতি নয়। তিনি বলেন, যদি তা-ই বোঝাত, তাহলে বলা হতো—সাঈ না করলে কোনো গুনাহ নেই। এরপর তিনি জানান, আয়াতটি কিছু আনসার লোকের পুরনো ধারণা দূর করার জন্য নাযিল হয়েছিল। শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হজ্জ করতে এসে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে হজ্জ পূর্ণ হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের আয়াত বুঝতে সঠিক ব্যাখ্যা দরকার।
- সাফা-মারওয়ার সাঈ হজ্জ ও উমরার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- পুরনো ভুল ধারণা ইসলামী নির্দেশ দিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।
- শব্দের সামান্য ভুল বোঝাবুঝি ইবাদতের অর্থ বদলে দিতে পারে।
