২৭/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩১৭১ - পশুকে কষ্ট না দিয়ে ধরা
যবেহ করার সময় তোমরা উত্তমরূপে যবেহ করো
পশুর কান ধরে টানা থেকে বারণের নববী শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১৭১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩১৭১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَجُرُّ شَاةً بِأُذُنِهَا فَقَالَ «دَعْ أُذُنَهَا وَخُذْ بِسَالِفَتِهَا».
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি তখন একটি বকরীর কান ধরে হেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেনঃ তুমি এর কান ছেড়ে দাও এবং ঘাড় ধরো।
[৩১৭১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তায়মী সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু জা'ফার আল-উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহণ করা যাবে না। আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলতেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬২৯৬, ২৯/১৩৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩১৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পশুর সাথে আচরণের একটি ছোট কিন্তু দরকারি শিক্ষা আছে। নবী صلى الله عليه وسلم এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি একটি বকরির কান ধরে হেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে বললেন, এর কান ছেড়ে দাও এবং ঘাড় ধরো। এখানে মূল বিষয় হলো পশুকে অযথা কষ্ট না দেওয়া। হাদিসটি যবেহের পদ্ধতি নয়; বরং যবেহের আগে পশুকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও কেমন আচরণ করা উচিত, সেটি দেখায়। কোরবানির পশুর সাথে আচরণ, পশুকে কষ্ট না দেওয়া, কোরবানির আদব—এসব বিষয়ে এই হাদিস খুব সহজ শিক্ষা দেয়। পশু কথা বলতে পারে না, কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم তার কষ্টের দিকেও খেয়াল করেছেন—এটাই এই বর্ণনার নরম বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পশুর কান ধরে হেঁচড়ে টানা থেকে বারণ করা হয়েছে।
- পশুকে ধরার ক্ষেত্রেও কোমলতা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم পশুর কষ্টের বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন।
- কোরবানির পশু বা সাধারণ পশুর সাথে ভালো আচরণ করা উচিত।
