২৯/৪৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৩৮ - মিহি রুটি দেখে আবু হুরাইরার কান্না
পাতলা রুটি (চাপাতি)
মিহি রুটি ও স্মৃতি: আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর কান্নার কারণ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩৩৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৩৩৮
حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْرٍ، عِيسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ الرَّمْلِيُّ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ زَارَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَوْمَهُ بِيُبْنَا فَأَتَوْهُ بِرُقَاقٍ مِنْ رُقَاقِ الأُوَلِ فَبَكَى وَقَالَ مَا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ هَذَا بِعَيْنِهِ قَطُّ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আতা’) বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) তাঁর এলাকা অর্থাৎ উবাইনায় (ইউনা) যান। লোকেরা তাঁর জন্য মিহি রুটি পরিবেশন করলে তিনি কেঁদে দিলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো এরূপ রুটি দেখেননি।
[৩৩৩৮] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীসের রাবী১. দমরাহ বিন রাবীআহ সম্পর্কে আবূ হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। আবূ সাঈদ বিন য়ুনুস আল-মিসরী বলেন, তিনি তাদের যুগে একজন ফাকীহ ছিলেন। আহমেদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী ও আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদীস বর্ণনায় কিছু সন্দেহ করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৩৮, ১৩/৩১৬ নং পৃষ্ঠা)২. (উসমান) ইবনু আতা’ সম্পর্কে আবূ আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবূ বাক্র আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। আবূ হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদীস গ্রহণ করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য হবে না। আহমেদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৪৬, ১৯/৪৪১ নং পৃষ্ঠা)৩. আতা’ বিন মুসলিম সম্পর্কে আবূ বাক্র আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তিনি হাদীস ভুলে যেতেন। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৪১, ২০/১০৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আতা (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ) তাঁর এলাকায় গেলে লোকেরা তাঁর জন্য মিহি রুটি পরিবেশন করে। তা দেখে তিনি কেঁদে দেন এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কখনো এরূপ রুটি দেখেননি। এই বর্ণনায় সাহাবীদের হৃদয়ে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবনের স্মৃতি কত গভীর ছিল তা বোঝা যায়। ভালো বা উন্নত খাবার সামনে এলেও তারা নবীজির সাদামাটা জীবনের কথা মনে করতেন। তবে হাদিসে মিহি রুটি হারাম বা নিষিদ্ধ বলা হয়নি; শুধু আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর অনুভূতি ও বক্তব্য এসেছে। তাই মিহি রুটি, নবীজির খাবার এবং সাহাবীদের স্মৃতি—এই হাদিসের মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবু হুরাইরা (রাঃ) মিহি রুটি দেখে নবীজির কথা স্মরণ করেন।
- সাহাবীদের মনে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সরল জীবন গভীরভাবে ছিল।
- হাদিসে মিহি রুটি নিষিদ্ধ বলা হয়নি।
- নিয়ামত দেখলে নবীজির জীবন স্মরণ করা হৃদয়কে নরম করে।
