৩১/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৩৭ - চিকিৎসা ও তাকদীরের সম্পর্ক
আল্লাহ যে রোগই সৃষ্টি করেছেন, তার প্রতিষেধকও সৃষ্টি করেছেন
চিকিৎসা তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত: ওষুধ, ঝাড়ফুঁক ও সতর্কতার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৪৩৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪৩৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي خِزَامَةَ، عَنْ أَبِي خِزَامَةَ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ أَرَأَيْتَ أَدْوِيَةً نَتَدَاوَى بِهَا وَرُقًى نَسْتَرْقِي بِهَا وَتُقًى نَتَّقِيهَا هَلْ تَرُدُّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ شَيْئًا قَالَ «هِيَ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ " .
আবূ খিযামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে সকল ঔষধ দ্বারা আমরা চিকিৎসা করি, যে ঝাড়ফুঁক করি এবং যে সকল প্রতিরোধমূলক বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করি, সে সম্পর্কে আপনার মতামত কী? সেগুলো কি আল্লাহ নির্ধারিত তাকদীর কিছুমাত্র রদ করতে পারে? তিনি বলেনঃ সেগুলোও তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত।
৩৪৩৭] তিরমিযী ২০৬৫। আলার রাওদাতুন নাদিয়্যাহ ২/২২৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৩৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: তাকদীর ও চিকিৎসা। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানুষ যে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে, ঝাড়ফুঁক করে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়—এসব কি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের কিছু রদ করতে পারে? উত্তরে তিনি বললেন, এগুলোও আল্লাহর তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত। এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আছে। চিকিৎসা করা, সতর্কতা নেওয়া বা ঝাড়ফুঁক করা—এসবকে তাকদীরের বিপরীত ভাবা ঠিক নয়। হাদিসের ভাষা অনুযায়ী, এগুলোও তাকদীরের অংশ। তাই একজন মুসলিম রোগের সময় ওষুধ নিতে পারে, সতর্ক থাকতে পারে, তবে মনে রাখবে সবই আল্লাহর নির্ধারণের মধ্যে ঘটে। এই হাদিস চিকিৎসা ও তাকদীর বিষয়ে ভুল ধারণা দূর করতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওষুধ ও চিকিৎসা নেওয়া তাকদীরের বাইরে নয়।
- ঝাড়ফুঁক ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছিল।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, এগুলোও আল্লাহর তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত।
- তাকদীর মানা মানে উপায়-উপকরণ ছেড়ে দেওয়া নয়।
