৩১/১০. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৫৮ - সালাতে শেফা

নামায রোগমুক্ত করে

সালাতে রোগমুক্তি: পেটব্যথার হাদিসের শিক্ষা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৪৫৮

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ مِسْكِينٍ، حَدَّثَنَا ذُؤَادُ بْنُ عُلْبَةَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ هَجَّرَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ فَهَجَّرْتُ فَصَلَّيْتُ ثُمَّ جَلَسْتُ فَالْتَفَتَ إِلَىَّ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ فَقَالَ «اشِكَمَتْ دَرْدْ». قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «قُمْ فَصَلِّ فَإِنَّ فِي الصَّلاَةِ شِفَاءً». قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ذُؤَادُ بْنُ عُلْبَةَ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَقَالَ فِيهِ اشِكَمَتْ دَرْدْ . يَعْنِي تَشْتَكِي بَطْنَكَ بِالْفَارِسِيَّةِ . قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَ بِهِ رَجُلٌ لأَهْلِهِ فَاسْتَعْدَوْا عَلَيْهِ .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরত করলেন, আমিও হিজরত করলাম। আমি সালাত পড়ার পর তাঁর পাশে বসলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ ‘ইশকানিব দারদ’ (তোমার কি পেটে ব্যথা)? আমি বললাম, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তুমি উঠে দাঁড়িয়ে সালাত পড়ো। কেননা সালাতের মধ্যে রোগমুক্তি আছে।

[৩৪৫৮] আহমাদ ৮৮২৩, ৮৯৮৭। দঈফাহ ৪০৬৬। উক্ত হাদীসের রাবী কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হাজার আল-আসকালীন বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৯৫৫, ৫/১০৮ নং পৃষ্ঠা)২. যাওওয়াদ বিন উলবাহ সম্পর্কে আবূ বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবূ হাতিম আর রাযী বলেন, তার থেকে হাদীস গ্রহণ করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবরাহীম বিন ইয়া’কূব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে শিথিল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৮১৭, ৮/৫১৯ নং পৃষ্ঠা) [উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ] ৩৪৫৮. দাউদ বিন উলবাহ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তাতে আরো আছেঃ তিনি ফারসী শব্দযোগে (দরদ) বলেনঃ “তোমার পেটে কি ব্যথা অনুভব করছ”? আবূ আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি এ হাদীসের বরাতে তার পরিবারবর্গে বললো, “সালাতের দ্বারা সাহায্য নিয়ে সাফল্য অর্জন করো”।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৪৫৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তিনি নামাজ পড়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পাশে বসেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তার দিকে তাকিয়ে ফারসি ভাষায় জিজ্ঞেস করলেন, পেটে ব্যথা আছে কি না। তিনি হ্যাঁ বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, উঠে নামাজ পড়ো, কারণ সালাতে শেফা আছে। এখানে সালাতের শেফা সরাসরি রোগের প্রসঙ্গে এসেছে। তবে হাদিসের বক্তব্যকে অতিরিক্তভাবে ব্যাখ্যা করে সব চিকিৎসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা যাবে না। বরং মূল শিক্ষা হলো, অসুস্থতা ও কষ্টের সময় নামাজ মুমিনের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার বড় মাধ্যম। সালাত শরীর, মন ও ঈমান—সব দিকেই মানুষকে আল্লাহর স্মরণে রাখে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অসুস্থতার সময় নামাজ আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার মাধ্যম।
  • এই বর্ণনায় পেটব্যথার প্রসঙ্গে সালাতে শেফার কথা এসেছে।
  • ইবাদত ও চিকিৎসা—দুটিই ভারসাম্য রেখে দেখা উচিত।
  • কষ্টের সময় সালাত মুমিনের মনকে স্থির করতে সাহায্য করে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন