৩৪/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৮৩০ - হিদায়াত, তওবা ও অন্তর শুদ্ধির দোয়া
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুআ’
হিদায়াত, তওবা ও অন্তর শুদ্ধির নববী দোয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৮৩০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৮৩০
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، سَنَةَ إِحْدَى وَثَلاَثِينَ وَمِائَتَيْنِ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، فِي سَنَةِ خَمْسٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ فِي مَجْلِسِ الأَعْمَشِ مُنْذُ خَمْسِينَ سَنَةً حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ الْجَمَلِيُّ فِي زَمَنِ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُكْتِبِ عَنْ طَلِيقِ بْنِ قَيْسٍ الْحَنَفِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ـ ﷺ ـ كَانَ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ " رَبِّ أَعِنِّي وَلاَ تُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِي وَلاَ تَنْصُرْ عَلَىَّ وَامْكُرْ لِي وَلاَ تَمْكُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَىَّ رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ رَهَّابًا لَكَ مُطِيعًا إِلَيْكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَاهْدِ قَلْبِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي " . قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيُّ قُلْتُ لِوَكِيعٍ أَقُولُهُ فِي قُنُوتِ الْوِتْرِ قَالَ نَعَمْ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দোয়ায় বলতেন : “হে প্রভু! আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না, আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না, আমার জন্য কৌশল এঁটো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল এঁটো না, আমাকে হেদায়াত দান করো, আমার জন্য হেদায়াতের পথ সহজতর করো এবং যে ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার ও সীমা লঙ্ঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।হে প্রভু! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও, তোমার জন্য অনেক যিকিরকারী, তোমাকে অধিক ভয়কারী, তোমার অধিক আনুগত্যকারী, তোমার নিকট অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানাও। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে-মুছে ফেলো, আমার দোয়া কবুল করো, আমার অন্তরকে হেদায়াত দান করো, আমার যবানকে সোজা রাখো, আমার যুক্তি-প্রমাণ বহাল করো এবং আমার মনের সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত করো। আবুল হাসান আত-তানাফিসী (রহঃ) বলেন – আমি ওয়াকী‘ (রহঃ) কে বললাম, আমি কি তা বেতেরের কুনূতে পড়তে পারি? তিনি বলেন, হাঁ।
[৩১৬২] তিরমিযী ৩৫৫১, আবু দাউদ ১৫১০, আহমাদ ১৯৯৮। আয যিলাল ৩৮৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৮৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর একটি বিস্তৃত দোয়া এসেছে। এতে তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য, সহযোগিতা, হিদায়াত এবং হিদায়াতের পথ সহজ হওয়ার প্রার্থনা করেছেন। তারপর তিনি কৃতজ্ঞ বান্দা, বেশি যিকিরকারী, আল্লাহকে ভয়কারী, অনুগত ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসা বান্দা হওয়ার দোয়া করেছেন। শেষ অংশে তওবা কবুল, গুনাহ ধুয়ে দেওয়া, দোয়া কবুল, অন্তরের হিদায়াত, জবান সোজা রাখা এবং অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করার কথা এসেছে। তাই এই হাদিসের মূল বিষয় হলো পূর্ণাঙ্গ দোয়া। এতে দুনিয়া-আখিরাতের অনেক জরুরি চাওয়া একত্র হয়েছে, তবে সব কিছুই হাদিসের বাক্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর কাছে সাহায্য ও হিদায়াত চাওয়া নবীজির দোয়ার অংশ।
- কৃতজ্ঞতা, যিকির ও আনুগত্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।
- তওবা কবুল ও গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ।
- অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত।
