৩৬/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯২৯ - কালেমার সাক্ষ্য ও জীবন রক্ষার শিক্ষা
যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ” বলে, তার উপর হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা
কালেমার সাক্ষ্য দিলে ছেড়ে দেয়ার নবীজির নির্দেশ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯২৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯২৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ أَوْسًا أَخْبَرَهُ قَالَ إِنَّا لَقُعُودٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ـ ﷺ ـ وَهُوَ يَقُصُّ عَلَيْنَا وَيُذَكِّرُنَا إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ فَسَارَّهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ «اذْهَبُوا بِهِ فَاقْتُلُوهُ» . فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ دَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَقَالَ «هَلْ تَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . قَالَ نَعَمْ قَالَ «اذْهَبُوا فَخَلُّوا سَبِيلَهُ فَإِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ حَرُمَ عَلَىَّ دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ» .
আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি আমাদেরকে (অতীতের) ঘটনাবলী উল্লেখপূর্বক উপদেশ দিচ্ছিলেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে তাঁর সাথে একান্তে কিছু বললো। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করো। লোকটি ফিরে গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই”? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ যাও, তোমরা তাকে তার পথে ছেড়ে দাও। কারণ লোকেরা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” না বলা পর্যন্ত আমাকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা তাই করলে তাদের জান-মালে হস্তক্ষেপ আমার জন্য হারাম হয়ে গেলো।
[৩২৬১] নাসায়ী ৩৯৭৯, ৩৯৮২, ৩৯৮৩, আহমাদ ১৫৭২৭, দারিমী ২৪৪৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বাস্তব ঘটনার কথা আছে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) লোকদের উপদেশ দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে একান্তে কিছু বললে প্রথমে তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতে বলা হয়। লোকটি ফিরে যাওয়ার পর নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাকে ডাকেন এবং জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই? সে হ্যাঁ বললে তিনি তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর তিনি জানান, মানুষ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা পর্যন্ত তাঁকে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা তা করলে তাদের জান-মালে হস্তক্ষেপ তাঁর জন্য হারাম হয়ে যায়। এই হাদিসে কালেমার সাক্ষ্যের মর্যাদা, জান-মালের নিরাপত্তা এবং বাহ্যিক স্বীকারোক্তির গুরুত্ব পরিষ্কার হয়েছে। তাই এই বর্ণনা মানুষকে দ্রুত রায় না দিয়ে প্রকাশ্য সাক্ষ্যকে গুরুত্ব দিতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কালেমার সাক্ষ্য দিলে জান-মালের নিরাপত্তার বিষয়টি হাদিসে এসেছে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) লোকটিকে প্রশ্ন করে তার বক্তব্য শুনেছেন।
- মানুষের বাহ্যিক স্বীকারোক্তিকে গুরুত্ব দেয়া দরকার।
- জান-মালে হস্তক্ষেপের বিষয়টি হাদিসে কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
