৩৬/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৪৪ - হাওযে কাওসার ও হানাহানির নিষেধ
আমার পরে তোমরা পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে কুফরীতে ফিরে যেও না
হাওযে কাওসারের স্মরণ ও মুসলিমদের হানাহানি থেকে বাঁচার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৪৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৪৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، عَنِ الصُّنَابِحِ الأَحْمَسِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «أَلاَ إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ وَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي».
আস সুনাবিহ আল-আহমাসী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাবধান! আমি হাওযে কাওসারে তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকবো এবং আমি অন্যান্য উম্মাতদের উপর তোমাদের সংখ্যাধিক্যের গৌরব প্রকাশ করবো। সুতরাং তোমরা আমার পরে পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়ো না।
[৩২৭৬] আহমাদ ১৮৫৯০।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি হাওযে কাওসারে উম্মতের আগে উপস্থিত থাকবেন এবং অন্যান্য উম্মতের সামনে নিজের উম্মতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গৌরব করবেন। এরপর তিনি বলেন, তোমরা আমার পরে পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়ো না। এখানে সুন্দরভাবে আশাবাদ ও সতর্কতা একসাথে এসেছে। একদিকে উম্মতের জন্য নবীজির ভালোবাসা ও আশা বোঝা যায়। অন্যদিকে মুসলিমদের হানাহানি সেই মর্যাদার সাথে যায় না—এ কথাও স্পষ্ট হয়। হাওযে কাওসার, উম্মতের মর্যাদা এবং ফিতনা থেকে বাঁচা—এই হাদিসে এসব বিষয় একসাথে এসেছে। মুসলিমদের উচিত নিজেদের মাঝে এমন আচরণ না করা, যা রক্তপাত, বিভেদ বা বড় বিপদের দিকে নিয়ে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির উম্মতের মর্যাদা আছে, তাই আচরণেও সেই মর্যাদা রাখতে হবে।
- পরস্পর হানাহানি উম্মতের জন্য লজ্জা ও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- হাওযে কাওসারের স্মরণ মুসলিমকে দায়িত্বশীল হতে শেখায়।
- ঐক্য ও শান্তি রক্ষা মুসলিম সমাজের বড় প্রয়োজন।
