৩৬/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৬৬ - অন্যের দুনিয়ার জন্য আখিরাত নষ্ট
দু’ মুসলমান পরস্পর সংঘাতে লিপ্ত হলে
অন্যের দুনিয়ার জন্য নিজের আখিরাত নষ্ট করা কেন ভয়াবহ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৬৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৬৬
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَبْدِ الْحَكَمِ السَّدُوسِيِّ، حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَ " مِنْ شَرِّ النَّاسِ مَنْزِلَةً عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَبْدٌ أَذْهَبَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَا غَيْرِهِ ".
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি অপরের পার্থিব স্বার্থে আখেরাত বরবাদ করেছে, কেয়ামতের দিন সে হবে আল্লাহর নিকট সর্বপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তি।
[৩২৯৮] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। দঈফাহ ১৯১৫।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি অপরের পার্থিব স্বার্থে নিজের আখিরাত বরবাদ করে, কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট অবস্থার লোকদের মধ্যে থাকবে। হাদিসটি ফিতনার সময় মানুষের ভুল সিদ্ধান্তের দিকে সতর্ক করে। অনেক সময় মানুষ ক্ষমতাবান, দল, স্বার্থ বা অন্যের লাভের জন্য এমন কথা বা কাজ করে, যার ক্ষতি তার নিজের দ্বীন ও আখিরাতে পড়ে। এখানে মূল শিক্ষা হলো—দুনিয়ার লাভ যদি অন্য কারও হয়, কিন্তু গুনাহের বোঝা নিজের ঘাড়ে আসে, তবে তা বড় ক্ষতি। একজন মুমিনের উচিত নিজের আখিরাতকে আগে ভাবা এবং অন্যের স্বার্থে অন্যায়, জুলুম বা ফিতনায় জড়ানো থেকে বিরত থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের দুনিয়ার লাভের জন্য নিজের আখিরাত নষ্ট করা ভয়াবহ ক্ষতি।
- ক্ষমতা বা স্বার্থের পেছনে চলার আগে আখিরাতের হিসাব ভাবা উচিত।
- ফিতনায় অন্যের হাতিয়ার হয়ে যাওয়া থেকে সাবধান থাকা দরকার।
- মুমিনের কাছে আখিরাতের নিরাপত্তা দুনিয়ার লাভের চেয়ে বড়।
