৩৬/১২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৭৩ - জান্নাতের আমল ও জিহ্বা সংযম
কলহ-বিপর্যয় চলাকালে রসনা সংযত রাখা
জান্নাতের পথে আমল ও জিহ্বা সংযমের মূল শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৭৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৭৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ ـ ﷺ ـ فِي سَفَرٍ فَأَصْبَحْتُ يَوْمًا قَرِيبًا مِنْهُ وَنَحْنُ نَسِيرُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ . قَالَ «لَقَدْ سَأَلْتَ عَظِيمًا وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ تَعْبُدُ اللَّهَ لاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ وَتَحُجُّ الْبَيْتَ». ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ النَّارَ الْمَاءُ وَصَلاَةُ الرَّجُلِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ " . ثُمَّ قَرَأَ ﴾تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ﴿ حَتَّى بَلَغَ ﴾جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴿ ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ وَعَمُودِهِ وَذُرْوَةِ سَنَامِهِ الْجِهَادُ». ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمِلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ " . قُلْتُ بَلَى . فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ فَقَالَ " تَكُفُّ عَلَيْكَ هَذَا». قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ قَالَ «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ عَلَى وُجُوهِهِمْ فِي النَّارِ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ».
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি এক সফরে নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সাথে ছিলাম। একদিন ভোরবেলা আমি তাঁর সাথে পথ অতিক্রমকালে তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বলেন: তুমি এক কঠিন প্রশ্ন করলে। তবে বিষয়টি যার জন্য আল্লাহ সহজ করেন তার জন্য সহজ। তুমি আল্লাহর ইবাদত করো, তার সাথে অন্য কিছু শরীক করবে না। নামায কায়েম করো, যাকাত দাও, রমাদান মাসের রোযা রাখো এবং আল্লাহর ঘরের হজ্জ করো। অত:পর তিনি বলেন: আমি কি তোমাকে কল্যাণের পথসমূহ বলে দিবো না? (তাহলো) রোযা ঢালস্বরূপ, যাকাত পাপরাশি মুছে দেয়, যেমন পানি আগুন নিভিয়ে দেয় এবং মানুষের গভীর রাতের নামায।অত:পর তিনি তিলাওয়াত করেন: "তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশা ও ভয়ে এবং আমি তাদেরকে সে জীবনোপকরণ দান করেছি, তা থেকে তারা খরচ করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ" (সূরা আস-সাজদা: ১৬-১৭)।অত:পর তিনি বলেন: আমি কি তোমাকে কাজের মূল, তার স্তম্ভ ও শীর্ষ চূড়া সম্পর্কে অবহিত করবো না? তা হলো জিহাদ। তারপর তিনি বলেন: আমি কি তোমাকে এই সব কাজের নির্যাস সম্পর্কে অবহিত করবো না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি তাঁর জিহ্বা ধরে বলেন: তুমি এটা সংযত রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমরা যা কিছু বলি সেজন্য কি পাকড়াও হবো? তিনি বলেন: হে মুআয! তোমার মা তোমার জন্য কাঁদুক। মানুষ তো তার অসংযত কথাবার্তার কারণেই অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
[৩৩০৫] তিরমিযী ২৬১৬। ইরওয়া’ ৪১৩, আত তা’লীকুর রাগীব ৪/৫-৬, তাখরীজুল ঈমান লি ইবনু আবূ শায়বাহ ১-২।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে মু‘আয (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এমন কাজ জানতে চান, যা জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে আল্লাহর ইবাদত, শিরক না করা, নামাজ কায়েম, যাকাত দেওয়া, রমাদানের রোজা রাখা এবং হজ্জের কথা বলেন। এরপর তিনি রোজাকে ঢাল, সদাকাকে পাপ মোচনের কারণ এবং গভীর রাতের নামাজকে কল্যাণের পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। কাজের মূল, স্তম্ভ ও শীর্ষের কথাও আসে। শেষে তিনি সবকিছুর নির্যাস হিসেবে জিহ্বা ধরে বলেন—এটি সংযত রাখো। এই হাদিসের বড় শিক্ষা হলো ইবাদত শুধু বাহ্যিক কাজ নয়; জিহ্বার নিয়ন্ত্রণও দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদ, নামাজ, যাকাত, রোজা ও হজ্জ দ্বীনের বড় আমল।
- রোজা, সদাকা ও রাতের নামাজ কল্যাণের দরজা হিসেবে এসেছে।
- জিহ্বা সংযম না থাকলে মানুষ বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
- জান্নাতের পথ জানতে চাইলে আমল ও কথা—দুটোই ঠিক রাখা দরকার।
