৩৬/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০০৬ - জালেমকে সত্যের উপর দাঁড় করানোর শিক্ষা
সৎকাজের নির্দেশদান এবং অসৎকাজে বাধাদান করা
জালেমের হাত ধরা: অন্যায় বন্ধে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০০৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০০৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمَّا وَقَعَ فِيهِمُ النَّقْصُ كَانَ الرَّجُلُ يَرَى أَخَاهُ عَلَى الذَّنْبِ فَيَنْهَاهُ عَنْهُ فَإِذَا كَانَ الْغَدُ لَمْ يَمْنَعْهُ مَا رَأَى مِنْهُ أَنْ يَكُونَ أَكِيلَهُ وَشَرِيبَهُ وَخَلِيطَهُ فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ وَنَزَلَ فِيهِمُ الْقُرْآنُ فَقَالَ ﴾لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ﴿ حَتَّى بَلَغَ ﴾وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ﴿». قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ مُتَّكِئًا فَجَلَسَ وَقَالَ «لاَ حَتَّى تَأْخُذُوا عَلَى يَدَىِ الظَّالِمِ فَتَأْطِرُوهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا». حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، - أَمْلاَهُ عَلَىَّ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْوَضَّاحِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ ﷺ ـ بِمِثْلِهِ .
আবূ উবায়দাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে এভাবে পাপাচারের সূচনা হয় যে, কোন ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইকে পাপাচারে লিপ্ত দেখলে সে তাকে তা থেকে বারণ করতো। কিন্তু পরদিন সে তাকে পাপাচারে লিপ্ত দেখে নিষেধ করতো না, বরং তার সাথে মেলামেশা ও উঠাবসা করতো এবং তার সাথে পানাহারে অংশগ্রহণ করতো। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের পরস্পরের অন্তরকে মৃত্যুদান করেন। তাদের সম্পর্কে তিনি কোরআন মাজীদে আয়াত নাযিল করেন।তিনি বলেনঃ “বনী ইসররাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা দাউদ ও মরিয়ম-তনয় ঈসা কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। তা এজন্য যে, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যেসব গর্হিত কাজ করতো তা থেকে তারা একে অপরকে বারণ করতো না। তারা যা করতো তা কতই না নিকৃষ্ট। তাদের অনেককে তুমি কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবে। কত নিকৃষ্ট তাদের কৃতকর্ম যে কারণে আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রোধান্বিত হয়েছেন। তাদের শাস্তি ভোগ স্থায়ী হবে। তারা আল্লাহর প্রতি, নবীর প্রতি এবং যা তার প্রতি নাযিল হয়েছে তাতে বিশ্বাসী হলে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের অনেকেই সত্যত্যাগী” (সূরা মাইদাঃ ৭৮-৮১)।রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসে বলেনঃ না! তোমরা জালেমের হাত ধরে তাকে জোরপূর্বক সত্যের উপর দাঁড় করিয়ে দিবে।[উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলো:] ৪০০৬(১). আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
[৩৩৩৮] তিরমিযী ৩০৪৭, আবূ দাঊদ ৪৩৩৬। মিশকাত ৫১৪৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনি ইসরাঈলের একটি আচরণকে সতর্কতা হিসেবে বলা হয়েছে। তারা প্রথমে ভাইকে পাপ করতে দেখে নিষেধ করত, কিন্তু পরদিন একই পাপ দেখে তার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও মেলামেশা করত। এতে পাপের প্রতি ঘৃণা কমে যায় এবং অন্যায় স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এরপর কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে, তারা একে অন্যকে গর্হিত কাজ থেকে বারণ করত না। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসে বলেন, জালেমের হাত ধরে তাকে সত্যের উপর দাঁড় করাতে হবে। তাই মূল শিক্ষা হলো পাপকে পাপ হিসেবে চেনা, জালেমকে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাপ দেখেও বারবার চুপ থাকলে পাপকে স্বাভাবিক মনে হতে পারে।
- জালেমকে প্রশ্রয় দেওয়া সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
- সত্য কথা বলা শুধু মুখের দাবি নয়, কাজে তার প্রমাণ দরকার।
- আগের জাতির ঘটনা থেকে সতর্কতা নেওয়া উচিত।
