৩৬/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০০৮ - মানুষের ভয়ে চুপ থাকা ও আত্মসম্মান
সৎকাজের নির্দেশদান এবং অসৎকাজে বাধাদান করা
নিজেকে অপমানিত করা নয়: আল্লাহর বিধানে সত্য বলা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০০৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০০৮
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " لاَ يَحْقِرْ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَحْقِرُ أَحَدُنَا نَفْسَهُ قَالَ " يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ ثُمَّ لاَ يَقُولُ فِيهِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِي كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ خَشْيَةُ النَّاسِ . فَيَقُولُ فَإِيَّاىَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى " .
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন নিজেকে অপমানিত না করে। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ নিজেকে কিভাবে অপমানিত করতে পারে? তিনি বলেনঃ সে কোন বিষয়ে আল্লাহর বিধান অবহিত থাকা সত্ত্বেও তার পরিপন্থী কিছু হতে দেখেও সে সম্পর্কে কিছুই বললো না। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেনঃ অমুক অমুক ব্যাপারে কথা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিলো? সে বলবে, মানুষের ভয়। তখন আল্লাহ বলবেনঃ আমাকেও তো তোমার ভয় করা উচিত ছিলো।
[৩৩৪০] (আহমাদ ১১০৪৮,১১৩০২,১১৪৫৫। আত তা’লীকুর রাগীব ৩/১৬৯, দঈফ আল-জামি’ ৬৩৩২।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমাদের কেউ যেন নিজেকে অপমানিত না করে। সাহাবীরা জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করেন: কেউ যদি এমন বিষয় দেখে, যেখানে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তার কথা বলার দায়িত্ব আছে, কিন্তু সে কিছুই বলে না, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—কিসে বাধা দিয়েছিল? সে বলবে, মানুষের ভয়। তখন আল্লাহ বলবেন, আমাকেই তো তোমার ভয় করা উচিত ছিল। এখানে মূল শিক্ষা হলো মানুষের ভয় যেন আল্লাহর ভয়কে ঢেকে না দেয়। তবে হাদিসে ‘যেখানে কথা বলার দায়িত্ব আছে’ বলা হয়েছে; তাই জ্ঞান ছাড়া হৈচৈ করা নয়, বরং দায়িত্ব বুঝে সত্য বলা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর বিধান জানা থাকলে দায়িত্বের জায়গায় চুপ থাকা বিপজ্জনক।
- মানুষের ভয় আল্লাহর ভয়কে ঢেকে দেওয়া উচিত নয়।
- কিয়ামতে কথা না বলার কারণও জিজ্ঞাসা হতে পারে।
- সত্য বলার জন্য জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ দরকার।
