৩৬/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৫৮ - উম্মতের যুগপর্ব ও হারাজ থেকে নাজাত
কিয়ামতের নিদর্শনাবলী
উম্মতের যুগপর্ব: দয়া, সম্পর্কচ্ছেদ ও হারাজ থেকে বাঁচার দোয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৫৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০৫৮
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَعْقِلٍ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَ " أُمَّتِي عَلَى خَمْسِ طَبَقَاتٍ فَأَرْبَعُونَ سَنَةً أَهْلُ بِرٍّ وَتَقْوَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةِ سَنَةٍ أَهْلُ تَرَاحُمٍ وَتَوَاصُلٍ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى سِتِّينَ وَمِائَةِ سَنَةٍ أَهْلُ تَدَابُرٍ وَتَقَاطُعٍ ثُمَّ الْهَرْجُ الْهَرْجُ النَّجَا النَّجَا " . حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا خَازِمٌ أَبُو مُحَمَّدٍ الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا الْمِسْوَرُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي مَعْنٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " أُمَّتِي عَلَى خَمْسِ طَبَقَاتٍ كُلُّ طَبَقَةٍ أَرْبَعُونَ عَامًا فَأَمَّا طَبَقَتِي وَطَبَقَةُ أَصْحَابِي فَأَهْلُ عِلْمٍ وَإِيمَانٍ وَأَمَّا الطَّبَقَةُ الثَّانِيَةُ مَا بَيْنَ الأَرْبَعِينَ إِلَى الثَّمَانِينَ فَأَهْلُ بِرٍّ وَتَقْوَى». ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমার উম্মত পাঁচটি কাল পর্যায়ে বিভক্ত হবে। (প্রথম) চল্লিশ বছর হবে সৎকর্মপরায়ণ ও আল্লাহভীরু লোকেদের কাল পর্যায়। অতঃপর তাদের পরবর্তীদের পর্যায় হবে একশত বিশ বছর পর্যন্ত ব্যাপ্ত। তারা হবে পরস্পরের এক শত ষাট বছর হবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছেদকারী ও আত্মকেন্দ্রিক লোকেদের যুগ। তারা পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। এরপর চলবে গণহত্যা আর গণহত্যা। তা থেকে আল্লাহর কাছে নাজাত চাও, নাজাত চাও।[উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ] ৪০৫৮(১)। আনাস বিন মালিক (রাঃ) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মত পাঁচটি কাল পর্যায়ে বিভক্ত হবে। প্রতিটি পর্যায় হবে চল্লিশ বছরের। অতএব আমার ও আমার সাহাবীদের কাল হবে জ্ঞানী-গুণী ঈমানদারদের কাল। আর দ্বিতীয় কাল পর্যায় হবে চল্লিশ বছর থেকে আশি বছর পর্যন্ত সৎকর্মপরায়ণ ও মোত্তাকী লোকেদের কাল।……হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
[৩৩৯০] [হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। দঈফাহ ২৯৪০।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর উম্মতের কয়েকটি কালপর্বের কথা বলেছেন। প্রথম সময়কে সৎকর্মপরায়ণ ও আল্লাহভীরু লোকদের সময় বলা হয়েছে। এরপরের সময়কে দয়া ও পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষাকারী মানুষের সময় বলা হয়েছে। তারপর এমন যুগের কথা এসেছে, যেখানে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছেদ করবে, আত্মকেন্দ্রিক হবে এবং একে অন্যের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এরপর বলা হয়েছে, “হারাজ, হারাজ”—অর্থাৎ গণহত্যা বা ব্যাপক হত্যা; এবং বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে নাজাত চাও। একই হাদিসে আরেক সানাদের কথাও এসেছে, যেখানে নবী صلى الله عليه وسلم ও সাহাবীদের যুগকে জ্ঞানী-গুণী ঈমানদারদের যুগ বলা হয়েছে। এই হাদিসে “উম্মতের কালপর্ব”, “আত্মীয়তার সম্পর্ক”, “হারাজ” ও “নাজাত” প্রধান শিক্ষা বহন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উম্মতের মধ্যে ভালো গুণের সময় ও দুর্বলতার সময়—দুই অবস্থার কথা এসেছে।
- দয়া ও সম্পর্ক রক্ষা প্রশংসিত গুণ হিসেবে বোঝা যায়।
- সম্পর্কচ্ছেদ ও আত্মকেন্দ্রিকতা সমাজকে দুর্বল করে।
- হারাজের সময় আল্লাহর কাছে নাজাত চাওয়ার শিক্ষা এসেছে।
