৩৬/৩০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৬৪ - কাবা আক্রমণ ও নিয়তের বিচার
বায়দা’-এর সামরিক বাহিনী
কাবা আক্রমণকারী বাহিনী এবং নিয়ত অনুযায়ী বিচার
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৬৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০৬৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْمُرْهِبِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ صَفِيَّةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «لاَ يَنْتَهِي النَّاسُ عَنْ غَزْوِ هَذَا الْبَيْتِ حَتَّى يَغْزُوَ جَيْشٌ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالْبَيْدَاءِ - أَوْ بَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ - خُسِفَ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ وَلَمْ يَنْجُ أَوْسَطُهُمْ» . قُلْتُ فَإِنْ كَانَ فِيهِمْ مَنْ يُكْرَهُ قَالَ «يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ عَلَى مَا فِي أَنْفُسِهِمْ».
সাফিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা এই কাবা ঘর আক্রমণ করা থেকেও বিরত থাকবে না, এমনকি একটি সেনাদল যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। তারা বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলে তাদের অগ্রবর্তী ও পশ্চাতবর্তী দল ভূগর্ভে ধ্বসে যাবে এবং তাদের মধ্যবর্তী দলও রেহাই পাবেনা। আমি বললাম, যদি কাউকে জোরপূর্বক এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়? তিনি বলেনঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের স্ব স্ব নিয়াত অনুসারে উত্থিত করবেন।
[৩৩৯৬] তিরমিযী ২১৮৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মানুষ কাবা ঘর আক্রমণ করা থেকে পুরোপুরি থামবে না, এমনকি এক বাহিনী যুদ্ধ করতে বের হবে। তারা বায়দা স্থানে পৌঁছালে তাদের অগ্রবর্তী ও পশ্চাতবর্তী দল ধ্বসে যাবে, মাঝের দলও রক্ষা পাবে না। বর্ণনাকারী জিজ্ঞেস করেন, যদি কারওকে জোর করে সেই বাহিনীতে নেওয়া হয়? উত্তরে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের অন্তরের অবস্থার উপর উঠাবেন। তাই এই হাদিসে দুটি বিষয় স্পষ্ট: বাহ্যিকভাবে একই দলে থাকলেও সবার নিয়ত এক নয়; আর আল্লাহ মানুষের অন্তরের বাস্তবতা জানেন। কাবা আক্রমণের ভয়াবহতা যেমন এসেছে, তেমনি নিয়তের বিচারও এসেছে। এই শিক্ষা মুমিনকে কাজের ভেতরের উদ্দেশ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাবা আক্রমণ করা ভয়াবহ সতর্কতার বিষয় হিসেবে এসেছে।
- একই বাহিনীতে থাকলেও জোরপূর্বক থাকা ব্যক্তির অবস্থা আলাদা হতে পারে।
- কিয়ামতের দিন মানুষকে তার অন্তরের নিয়ত অনুযায়ী উঠানো হবে।
- বাহ্যিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গে অন্তরের উদ্দেশ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
