৩৭/৫. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১২০ - দরিদ্র মুমিনের মর্যাদা

গরীবদের ফাদীলাত

দরিদ্র মুমিনের মর্যাদা: মানুষের চোখে নয়, আল্লাহর কাছে সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪১২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ مَرَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ رَجُلٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ " مَا تَقُولُونَ فِي هَذَا الرَّجُلِ قَالُوا رَأْيَكَ فِي . هَذَا نَقُولُ هَذَا مِنْ أَشْرَافِ النَّاسِ هَذَا حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ أَنْ يُخَطَّبَ وَإِنْ شَفَعَ أَنْ يُشَفَّعَ وَإِنْ قَالَ أَنْ يُسْمَعَ لِقَوْلِهِ . فَسَكَتَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ وَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ «مَا تَقُولُونَ فِي هَذَا» . قَالُوا نَقُولُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا مِنْ فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ هَذَا حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ لَمْ يُنْكَحْ وَإِنْ شَفَعَ لاَ يُشَفَّعْ وَإِنْ قَالَ لاَ يُسْمَعْ لِقَوْلِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ «لَهَذَا خَيْرٌ مِنْ مِلْءِ الأَرْضِ مِثْلَ هَذَا» .

সাহল বিন সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা এ লোকটি সম্পর্কে কী বলো? সাহাবীগণ বলেন, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত হবে যথার্থ। আমরা বলি, সে সুপারিশ করলে তা মঞ্জুর করা হয়। সে কথা বললে তা শোনা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ থাকলেন।ইত্যবসরে আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কী বলো? সাহাবীগণ বলেন, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বলি যে, এ ব্যক্তি তো দীনহীন মুসলমানদের অন্তভূক্ত। সে এতই যোগ্য যে, সে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়, সুপারিশ করলে তা মঞ্জুর করা হয় না এবং কথা বললে তার কথায় কেউ কর্ণপাত করে না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ প্রথমোক্ত শ্রেণীর লোকের দ্বারা পৃথিবী ভরে গেলেও শেষোক্ত ব্যক্তি তাদের চেয়ে উত্তম।

[৩৪৫২] সহীহুল বুখারী ৫০৯১।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১২০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের বাহ্যিক সম্মান আর আল্লাহর কাছে প্রকৃত মর্যাদার পার্থক্য বুঝিয়েছেন। প্রথম ব্যক্তি সমাজে প্রভাবশালী ছিল। তার কথা শোনা হতো, সুপারিশ গ্রহণ করা হতো, বিয়ের প্রস্তাবও গুরুত্ব পেত। দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিল দরিদ্র মুসলিম, যাকে মানুষ খুব বেশি গুরুত্ব দিত না। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, পৃথিবী ভরে প্রথম ধরনের লোক থাকলেও সেই দরিদ্র মুসলিম তাদের চেয়ে উত্তম। এখানে মূল শিক্ষা হলো—মানুষের মূল্য ধন, পরিচিতি বা সামাজিক প্রভাব দিয়ে মাপা ঠিক নয়। দরিদ্র মুমিনের মর্যাদা, ঈমানের মূল্য এবং আল্লাহর কাছে সম্মান—এসব বিষয়ই এই হাদিসের মূল বার্তা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষকে শুধু ধন-সম্পদ বা সামাজিক পরিচয় দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।
  • দরিদ্র মুসলিমকেও সম্মান করা উচিত, কারণ আল্লাহর কাছে মর্যাদা বাহ্যিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না।
  • কারো কথা সমাজে কম শোনা হলেও তার ঈমান ও ভালোত্ব তাকে মূল্যবান করতে পারে।
  • বাহ্যিক প্রভাব সব সময় প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন