৩৭/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১৭২ - ভালো কথা গোপন করে মন্দ ছড়ানোর সতর্কতা
হিকমত ( প্রজ্ঞা)
ভালো কথা না বলে মন্দ ছড়ানো: মজলিসের আদবের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪১৭২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪১৭২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " مَثَلُ الَّذِي يَجْلِسُ يَسْمَعُ الْحِكْمَةَ ثُمَّ لاَ يُحَدِّثُ عَنْ صَاحِبِهِ إِلاَّ بِشَرِّ مَا يَسْمَعُ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَتَى رَاعِيًا فَقَالَ يَا رَاعِي أَجْزِرْنِي شَاةً مِنْ غَنَمِكَ. قَالَ اذْهَبْ فَخُذْ بِأُذُنِ خَيْرِهَا. فَذَهَبَ فَأَخَذَ بِأُذُنِ كَلْبِ الْغَنَمِ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মজলিসে বসে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাগুলো গোপন রাখলো, সে এমন এক ব্যক্তির সাথে তুলনীয় যে কোন রাখালের নিকট গিয়ে বললো, হে রাখাল! তোমার পাল থেকে আমাকে একটি বকরী দাও। রাখাল বললো, তুমি যাও এবং তোমার পছন্দমত পালের মধ্যকার উত্তম বকরীটি নাও। কিন্তু সে গিয়ে বকরীর পালের (পাহারারত) কুকুরের কান ধরে নিয়ে এল।
[৩৫০৪] আহমাদ ৮৪২৫, ৯০০৭, ১০২২৮। দঈফাহ ১৭৬১, দঈফ আল-জামি’ ৫২৪৯। উক্ত হাদীস এর রাবী১, আলী বিন যায়দ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বাল ও ইয়াহইয়া বিন মঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইয়া’কুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ সালিহ। আল-আজালী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪০৭০, ২০/৪৩৪নং পৃষ্ঠা)।২, আওস বিন খালিদ সম্পর্কে আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কাওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। [উপরোক্ত হাদীসের মোট দুটি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সনদ টি হলোঃ] ৪১৭২ (১) আবূ হুরায়রাহ (রাঃ), সূত্রে সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১৭২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: মজলিসের আদব। এই হাদিসে এমন ব্যক্তির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যে মজলিসে বসে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা শোনে, কিন্তু ভালো কথাগুলো বলে না; বরং যা মন্দ শুনেছে সেটিই ছড়ায়। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে এমন ব্যক্তির সাথে তুলনা করেছেন, যে রাখালের কাছে গিয়ে ভালো বকরী নিতে বলা সত্ত্বেও বকরীর বদলে পাহারাদার কুকুরের কান ধরে নিয়ে আসে। উদাহরণটি খুব স্পষ্ট: ভালো জিনিস সামনে থাকলেও মন্দ বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মজলিসে কারো কথা শুনলে ন্যায়ভাবে বলা, ভালো দিক গ্রহণ করা এবং মন্দ প্রচার না করা—এগুলো এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো কথা শুনে তা গোপন রেখে শুধু মন্দ ছড়ানো খারাপ আচরণ।
- মজলিসের কথা বলার সময় ন্যায় ও সততা রাখা উচিত।
- প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা গ্রহণ করা এবং ভালো দিক তুলে ধরা মুমিনের গুণ।
