৩৭/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১৯০ - আল্লাহভীতি ও ফেরেশতাদের সিজদা
দুশ্চিন্তা ও কান্নাকাটি
আল্লাহভীতি ও কান্না: আসমানে ফেরেশতাদের সিজদার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪১৯০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪১৯০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ مُوَرِّقٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ،قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " إِنِّي أَرَى مَا لاَ تَرَوْنَ وَأَسْمَعُ مَا لاَ تَسْمَعُونَ إِنَّ السَّمَاءَ أَطَّتْ وَحُقَّ لَهَا أَنْ تَئِطَّ مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعِ أَصَابِعَ إِلاَّ وَمَلَكٌ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدًا لِلَّهِ . وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا وَمَا تَلَذَّذْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْفُرُشَاتِ وَلَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعُدَاتِ تَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ " . وَاللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ شَجَرَةً تُعْضَدُ .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় আমি দেখি যা তোমরা দেখো না এবং আমি শুনি যা তোমরা শোনো না। আসমান চড়চড় করছে এবং চড়চড় করাই তার কর্তব্য। তাতে চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গাও খালি নাই, যেখানে একজন না একজন ফেরেশতা আল্লাহর জন্য সিজদায় তার কপাল লুটিয়ে দেননি। আল্লাহর শপথ! আমি যা জানি, তোমরা তা জানতে পারলে খুব কমই হাসতে, বরং অধিক কাঁদতে, বিছানায় স্ত্রীদের সম্ভোগ করতে না এবং চীৎকার করে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে করতে পথে-প্রান্তরে বেরিয়ে পড়তে। আল্লাহর শপথ! আহা, আমি যদি একটি গাছ হতাম এবং তা কেটে ফেলা হতো।
[৩৫২২] তিরমিযী ২৩১২। সহীহাহ ১৭২২, মিশকাত ৫৩৪৭। উক্ত হাদীসের রাবী ইব্রাহীম বিন মুহাজির সম্পর্কে আবূ বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনূ হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার হিফয শক্তি দুর্বল। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। সুফিয়ান বিন উইয়ায়নাহ তাকে দুর্বল বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০, ২/২১১ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমন বিষয় বলেছেন, যা মানুষ সাধারণভাবে দেখে না ও শোনে না। তিনি জানান, আসমান চড়চড় করছে, আর তাতে চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গাও খালি নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা আল্লাহর জন্য সিজদায় নেই। এরপর তিনি বলেন, মানুষ যদি তাঁর জানা বিষয় জানত, তাহলে কম হাসত, বেশি কাঁদত এবং আল্লাহর কাছে চিৎকার করে দোয়া করতে বেরিয়ে পড়ত। এই বর্ণনা “আল্লাহভীতি”, “কান্নাকাটি” এবং “ফেরেশতাদের সিজদা” বিষয়ে গভীর শিক্ষা দেয়। এখানে উদ্দেশ্য ভয় দেখিয়ে হতাশ করা নয়; বরং মানুষ যেন আল্লাহর মহত্ব, আখিরাতের বাস্তবতা এবং নিজের দুর্বলতা মনে রাখে। হাদিসটি আমাদের হাসি-মজার সীমা, দোয়ার প্রয়োজন এবং অন্তরের নরমতা নিয়ে ভাবায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর মহত্ব স্মরণ করলে অন্তর নরম হয়।
- ফেরেশতারা আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত—এটি গভীর চিন্তার বিষয়।
- অতিরিক্ত হাসি-মজার বদলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা দরকার।
- অদেখা বিষয়ের কথা শুনে ঈমান ও ভয় বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত।
