৩৭/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২০১ - আমলে ভারসাম্য ও আল্লাহর রহমত
আমল সম্পর্কে আশংকা
আমলে ভারসাম্য: নাজাত আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২০১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২০১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «قَارِبُوا وَسَدِّدُوا فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ بِمُنْجِيهِ عَمَلُهُ». قَالُوا وَلاَ أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «وَلاَ أَنَا إِلاَّ أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সব ব্যাপারে ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করো এবং বাড়াবাড়ি ত্যাগ করো। কেননা তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার আমল তাকে নাজাত দিতে পারবে। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও না? তিনি বলেনঃ আমিও না, তবে আল্লাহর রহমত ও করুণা যদি আমাকে ঢেকে নেয়।
[৩৫৩৩] আহমাদ ৯৬৮১, ১০০৫৩। সহীহাহ ২৬০২।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আমলের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পথ ধরতে বলেছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো—ইবাদত করতে হবে, কিন্তু বাড়াবাড়ি বা আত্মগর্বে পড়া যাবে না। মানুষ যত আমলই করুক, সেই আমল একা তাকে নাজাত দিতে পারে না; আল্লাহর রহমত ও করুণাই আসল ভরসা। সাহাবীরা যখন জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-ও কি আমলের কারণে নাজাত পাবেন না, তখন তিনি বলেন, তিনিও না—যদি আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ তাঁকে ঢেকে না নেয়। তাই আমলে ভারসাম্য মানে অলসতা নয়; বরং সঠিক পথে, বিনয়ী মনে, আল্লাহর দয়ার আশায় ইবাদত চালিয়ে যাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমল করতে হবে, তবে আমলের উপর অহংকার করা ঠিক নয়।
- দ্বীনের কাজে ভারসাম্য রাখা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ।
- নাজাতের আশা আল্লাহর রহমত ও করুণার সাথে যুক্ত।
