৩৭/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৮৪ - ন্যায়নিষ্ঠ উম্মত ও কেয়ামতের সাক্ষ্য
মুহাম্মাদ ﷺ -এর উম্মাতের বৈশিষ্ট্য
উম্মতে ওয়াসাত: কেয়ামতের দিন সাক্ষ্য দেওয়ার মর্যাদা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৮৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২৮৪
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " يَجِيءُ النَّبِيُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَيَجِيءُ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلاَنِ وَيَجِيءُ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الثَّلاَثَةُ وَأَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ وَأَقَلُّ فَيُقَالُ لَهُ هَلْ بَلَّغْتَ قَوْمَكَ فَيَقُولُ نَعَمْ . فَيُدْعَى قَوْمُهُ فَيُقَالُ هَلَ بَلَّغَكُمْ فَيَقُولُونَ لاَ . فَيُقَالُ مَنْ شَهِدَ لَكَ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ . فَتُدْعَى أُمَّةُ مُحَمَّدٍ فَيُقَالُ هَلْ بَلَّغَ هَذَا فَيَقُولُونَ نَعَمْ . فَيَقُولُ وَمَا عِلْمُكُمْ بِذَلِكَ فَيَقُولُونَ أَخْبَرَنَا نَبِيُّنَا بِذَلِكَ أَنَّ الرُّسُلَ قَدْ بَلَّغُوا فَصَدَّقْنَاهُ .قَالَ فَذَلِكُمْ قَوْلُهُ تَعَالَى ﴾وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا﴿.
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (কেয়ামতের দিন) একজন নবী আসবেন, তাঁর সাথে থাকবে একজন মাত্র অনুসারী। আবার কোন নবীর সাথে থাকবে দু’জন অনুসারী। আবার কোন নবীর সাথে থাকবে তিনজন বা তার কম-বেশী অনুসারী। তাঁকে বলা হবে, তুমি কি তোমার জাতির নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়েছিলে? তিনি বলবেনঃ হাঁ। তার জাতিকে ডাকা হবে এবং বলা হবে, তিনি কি তোমাদের নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়েছিলেন? তারা বলবে, না। তাঁকে বলা হবে, তোমার সাক্ষী কারা? তিনি বলবেনঃ মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর উম্মাত।তখন মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর উম্মাতকে ডাকা হবে এবং জিজ্ঞেস করা হবে, নবী কি (তাঁর উম্মাতের নিকট আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছিলেন? তারা বলবে, হাঁ। তাদের আবার জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা তা জানলে কিভাবে? তারা বলবে, আমাদের নবী (ﷺ) আমাদের অবহিত করেছিলেন যে, নিশ্চয় রাসূলগণ আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা তাঁর কথা সত্য বলে স্বীকার করেছি।তোমাদের জন্য এ কথার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী (অনুবাদ) : “এভাবে আমি তোমাদেরকে এক ন্যায়নিষ্ঠ জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের সাক্ষীস্বরূপ হতে পারে।” (সূরা বাকারাঃ ১৪৩)।
[৩৬১৬] [সহীহুল বুখারী ৩৩৩৯, তিরমিযী ২৯৬১, আহমাদ ১০৮৭৮। সহীহাহ ২৪৪৮।]
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের একটি দৃশ্য বলা হয়েছে। কোনো নবী তাঁর সাথে একজন, দুজন, তিনজন বা কম-বেশি অনুসারী নিয়ে আসবেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হবে, তিনি কি তাঁর জাতির কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়েছেন? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। কিন্তু তাঁর জাতি অস্বীকার করবে। তখন নবী বলবেন, তাঁর সাক্ষী মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) ও তাঁর উম্মত। মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মত বলবে, আমাদের নবী আমাদের জানিয়েছেন যে রাসূলগণ আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন; আমরা তাঁকে সত্য মেনেছি। এই হাদিস উম্মতে মুহাম্মাদীর দায়িত্ব ও মর্যাদা দুটোই দেখায়। আল্লাহর বাণী মানা এবং সত্যের সাক্ষ্য দেওয়া বড় বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীগণ আল্লাহর বাণী তাঁদের জাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন—এ বিশ্বাস ঈমানের অংশ।
- মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর উম্মতের ওপর সত্যের সাক্ষ্য দেওয়ার বড় মর্যাদা আছে।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর খবরকে সত্য মেনে নেওয়া উম্মতের পরিচয়ের অংশ।
