৩৭/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩৩৩ - জান্নাতবাসীদের রূপ ও পবিত্র জীবন
জান্নাতের বর্ণনা
জান্নাতবাসীদের রূপ: উজ্জ্বল চেহারা ও পবিত্র জীবন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৩৩৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪৩৩৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى ضَوْءِ أَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً لاَ يَبُولُونَ وَلاَ يَتَغَوَّطُونَ وَلاَ يَمْتَخِطُونَ وَلاَ يَتْفِلُونَ أَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ وَمَجَامِرُهُمُ الأَلُوَّةُ أَزْوَاجُهُمُ الْحُورُ الْعِينُ أَخْلاَقُهُمْ عَلَى خَلْقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ سِتُّونَ ذِرَاعًا» .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম দলের লোকেদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের পূর্ণ চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল। তাদের পরবর্তী দলের চেহারা হবে আকাশের উজ্জ্বল তারকারাজির মত। জান্নাতবাসীগণ পেশাব করবে না, পায়খানাও করবে না। তাদের নাকে শ্লেষ্মা হবে না এবং থুথুও ফেলবে না। তাদের চিরুনী হবে সোনার তৈরী। তাদের শরীর থেকে নির্গত ঘাম মিশকের ন্যায় সুগন্ধময় হবে। তাদের জন্য চন্দন কাঠ ও আগরবাতি জ্বালানো থাকবে। তাদের স্ত্রীগণ হবে আয়তলোচনা হূর। তাদের চরিত্র... বৈশিষ্ট্য হবে একই ব্যক্তির ন্যায়। তারা তাদের পিতা আদম (আঃ)-এর অবয়বে ষাট হাত লম্বা হবে।
[৩৬৬৫] সহীহুল বুখারী ৩২৪৫, মুসলিম ২৮৩৪, তিরমিজি ২৫৩৭। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবূ যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসায়ী বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা) [উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ] ৪৩৩৩ (১) . আবূ বাক্র বিন আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল (তিনি সত্যবাদী তবে তার ব্যাপারে শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে), উমারাহ ইবনুল কা’কা’, আবূ সালিহ, আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৩৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাতবাসীদের সৌন্দর্য ও পবিত্র জীবন তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম দল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে, আর পরের দল আকাশের উজ্জ্বল তারকার মতো হবে। তারা পেশাব, পায়খানা, শ্লেষ্মা বা থুথু থেকে মুক্ত থাকবে। তাদের চিরুনি হবে সোনার, ঘাম হবে মিশকের মতো সুগন্ধময়, আগর সুগন্ধ থাকবে, স্ত্রীগণ হবে আয়তলোচনা হূর। তাদের চরিত্র একরূপ হবে এবং তারা আদম (আঃ)-এর অবয়বে ষাট হাত লম্বা হবে। এই বর্ণনা জান্নাতের পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও শান্তির কথা মনে করায়। দুনিয়ার অপূর্ণতা সেখানে থাকবে না—এই আশা মুমিনকে সৎ আমলে আগ্রহী করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতের জীবন পবিত্রতা ও সৌন্দর্যে ভরা হবে।
- জান্নাতবাসীদের চেহারায় উজ্জ্বলতা ও সম্মান প্রকাশ পাবে।
- দুনিয়ার কষ্টকর শারীরিক প্রয়োজন সেখানে থাকবে না।
- সৎ আমল জান্নাতের আশাকে শক্ত করে।
