৩/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭০৭ - আযানের পদ্ধতি ও ফজরের তাসবীব

আযানের সূচনা

আযানের পদ্ধতি: শিঙ্গা-ঘণ্টা নয়, ইসলামের নিজস্ব ডাক

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৭০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ ﷺ ـ اسْتَشَارَ النَّاسَ لِمَا يُهِمُّهُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَذَكَرُوا الْبُوقَ فَكَرِهَهُ مِنْ أَجْلِ الْيَهُودِ ثُمَّ ذَكَرُوا النَّاقُوسَ فَكَرِهَهُ مِنْ أَجْلِ النَّصَارَى فَأُرِيَ النِّدَاءَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَطَرَقَ الأَنْصَارِيُّ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ لَيْلاً فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ بِلاَلاً بِهِ فَأَذَّنَ . قَالَ الزُّهْرِيُّ وَزَادَ بِلاَلٌ فِي نِدَاءِ صَلاَةِ الْغَدَاةِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ فَأَقَرَّهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ . قَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ الَّذِي رَأَى وَلَكِنَّهُ سَبَقَنِي .

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) সালাতের জন্য সমবেত করার ব্যাপারে সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেন। তাঁরা শিঙ্গার কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু এটি ইহুদীদের যন্ত্র বলে তিনি অপছন্দ করেন। অতঃপর তাঁরা নাকূসের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু এটি খ্রিস্টানদের ঘণ্টা বলে তিনি অপছন্দ করেন। সেই রাতে আবদুল্লাহ বিন যায়দ নামে এক আনসারীকে স্বপ্নে আযানের পদ্ধতি দেখানো হলো এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ও (রাতে একই স্বপ্ন দেখেন)।আনসারী সাহাবী রাতেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলে তিনি আযান দেন। যুহরী (রহঃ) বলেন, বিলাল (রাঃ) ফজরের সালাতে (ঘুম থেকে সালাত উত্তম) বাক্যটি সংযোজন করেন এবং রাসূল তা বহাল রাখেন। উমর (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় আমিও এ ব্যক্তির অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু সে আমার আগেই পৌঁছে গেছে।

[৭০৫] বুখারী ৬০৪, মুসলিম ৩৭৭, তিরমিযী ১৯০, নাসায়ী ৬২৬, আহমাদ ৬৩২১। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ, এর কিছু অংশ সহীহ যা বুখারী, মুসলিমে রয়েছে।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭০৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সালাতের জন্য মানুষকে কীভাবে ডাকা হবে, সে বিষয়ে সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শের কথা এসেছে। শিঙ্গার কথা বলা হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তা অপছন্দ করেন, কারণ তা ইহুদীদের যন্ত্র। নাকূসের কথা বলা হলে সেটিও অপছন্দ করেন, কারণ তা খ্রিস্টানদের ঘণ্টা। এরপর আবদুল্লাহ বিন যায়দ (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-কে আযানের পদ্ধতি স্বপ্নে দেখানো হয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে বলেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, বিলাল (রাঃ) ফজরের আযানে ‘সালাত ঘুম থেকে উত্তম’ বাক্য যোগ করেন এবং রাসূল (صلى الله عليه وسلم) তা বহাল রাখেন। এই হাদিস আযানের নিজস্ব পরিচয় ও ফজরের তাসবীবের ভিত্তি বোঝায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতের ডাকের জন্য ইসলামের নিজস্ব পদ্ধতি রাখা হয়েছে।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন।
  • ফজরের আযানে ঘুম থেকে সালাত উত্তম বাক্যটি বহাল রাখা হয়েছে।
  • আযান মুসলিম সমাজের পরিচয়ের অংশ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন