৪/৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৫৪ - ঘরে সালাতের স্থান নির্ধারণ
গোত্রের এলাকায় বা মহল্লায় নির্মিত মসজিদেসমূহ।
ঘরে সালাতের স্থান নির্ধারণ: ইতবান ইবনু মালিকের ঘটনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৭৫৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৭৫৪
حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيِّ، - وَكَانَ قَدْ عَقَلَ مَجَّةً مَجَّهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ مِنْ دَلْوٍ فِي بِئْرٍ لَهُمْ - عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ السَّالِمِيِّ - وَكَانَ إِمَامَ قَوْمِهِ بَنِي سَالِمٍ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ -قَالَ جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ أَنْكَرْتُ مِنْ بَصَرِي وَإِنَّ السَّيْلَ يَأْتِينِي فَيَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ مَسْجِدِ قَوْمِي وَيَشُقُّ عَلَىَّ اجْتِيَازُهُ فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَأْتِيَنِي فَتُصَلِّيَ فِي بَيْتِي مَكَانًا أَتَّخِذُهُ مُصَلًّى فَافْعَلْ . قَالَ «أَفْعَلُ» . فَغَدَا عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ وَأَبُو بَكْرٍ بَعْدَ مَا اشْتَدَّ النَّهَارُ وَاسْتَأْذَنَ فَأَذِنْتُ لَهُ وَلَمْ يَجْلِسْ حَتَّى قَالَ " أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ لَكَ مِنْ بَيْتِكَ " . فَأَشَرْتُ لَهُ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي أُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ فِيهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ وَصَفَفْنَا خَلْفَهُ فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ احْتَبَسْتُهُ عَلَى خَزِيرَةٍ تُصْنَعُ لَهُمْ .
ইতবান বিন মালিক আস-সালিমী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ছিলেন তাঁর গোত্র বনু সালিমের মসজিদের ইমাম এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং সয়লাবের কারণে আমার ঘর ও আমার গোত্রের মসজিদের মধ্যকার নালাটি পরিপূর্ণ হয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তা পার হয়ে আসা-যাওয়া আমার জন্য বেশি কষ্টকর। আপনি যদি মনে করেন, আমার বাড়িতে এসে আপনি একটা স্থানে সালাত পড়বেন, যাকে আমি সালাতের স্থান বানাতে পারি, তাহলে তাই করুন। তিনি বলেন, আচ্ছা! তাই করবো।পরের দিন দুপুরের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর (রাঃ) আমার বাড়িতে আসেন এবং ভিতরে আসার অনুমতি চান। আমি তাঁকে ভিতর বাড়িতে আসার অনুমতি দিলাম। কিন্তু তিনি না বসে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গায় তোমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমার সালাত পড়া তুমি পছন্দ করো? আমি ঘরের যে স্থানে আমার সালাত পড়া পছন্দ করি সেই জায়গাটি তাঁকে ইশারায় দেখিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে দাঁড়ালেন এবং আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাকআত সালাত পড়েন। এরপর আমি তাঁকে খাযীরা (এক প্রকার খাদ্য) খাওয়ানোর জন্য অপেক্ষা করালাম, যা তাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
[৭৫২] বুখারী ৭৭, ৪২৪-২৫, ৬৬৭, ৬৮৬, ৮৩৮, ৮৪০, ৪০১০, ৫৪০১; মুসলিম ৩৩, নাসায়ী ৭৮৮, ৮৪৪, ১৩২৭; আহমাদ ২৩১২৬, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪১৭; মাজাহ ৬৬০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইতবান ইবনু মালিক (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর গোত্রের মসজিদের ইমাম ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছিল। আবার সয়লাবের কারণে তাঁর ঘর ও গোত্রের মসজিদের মাঝের নালা পার হওয়া কষ্টকর হয়ে উঠত। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তাঁর ঘরে এসে এমন একটি স্থানে সালাত পড়েন, যাকে তিনি সালাতের স্থান বানাতে পারেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) আবু বকর (রাঃ)-কে নিয়ে তাঁর ঘরে আসেন, অনুমতি চান, এবং বসার আগে জিজ্ঞেস করেন—ঘরের কোন জায়গায় তিনি সালাত পড়তে চান। তারপর তিনি দুই রাকাত সালাত পড়ান। এই হাদিসে মসজিদে জামাআতের গুরুত্বের পাশাপাশি দুর্বলতা ও কষ্টের অবস্থায় ঘরে সালাতের স্থান নির্ধারণের সহজতা ও নবীজির সহানুভূতি দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শারীরিক কষ্টের অবস্থায় ঘরে সালাতের স্থান নির্ধারণের ঘটনা আছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীর প্রয়োজন ও কষ্টের দিকে খেয়াল রেখেছেন।
- ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি চাওয়ার আদব দেখা যায়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের নিয়ে ঘরে দুই রাকাত সালাত পড়েছেন।
