৪/১৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৯১ - জামাআত ত্যাগের কঠোর সতর্কতা
সালাতের জামাআত ত্যাগ করার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি।
জামাআত ত্যাগের বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কঠোর সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৭৯১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৭৯১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি সালাত কায়েমের নির্দেশ দেই এবং এক ব্যক্তিকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতে আদেশ করি। অতঃপর আমি লাকড়িসহ একদল লোককে নিয়ে বেরিয়ে যাই সেইসব লোকের নিকট যারা জামাআতে উপস্থিত হয়নি, অতঃপর তাদেরসহ তাদের বসতি আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করে দেই।
[৭৮৯] বুখারী ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪; মুসলিম ৬৫১-৩, তিরমিযী ২১৭, নাসায়ী ৮৪৮, আবূ দাঊদ ৫৪৮-৪৯, আহমাদ ৭২৮৪, ৭৮৫৬, ২৭৩৬৬, ২৭৪৭৫, ৮৫৭৮, ৮৬৭৩, ৮৬৮৩, ৯১১৯, ৯১৯২, ৯৭৫০, ৯৮৬০, ১০৪২৩, ১০৪৮৯, ১০৪৫২, ১০৫৭৯; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৯২, দারিমী ১২১২, ১২৭৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৮৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জামাআতে সালাত ত্যাগ করার ব্যাপারে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর ইচ্ছা হয় সালাত কায়েমের নির্দেশ দেন, একজনকে লোকদের নিয়ে সালাত পড়াতে বলেন, তারপর লাকড়িসহ কিছু লোক নিয়ে তাদের কাছে যান যারা জামাআতে উপস্থিত হয় না, এবং তাদের ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেন। এই বক্তব্য জামাআতের গুরুত্ব কত বেশি, তা বুঝিয়ে দেয়। হাদিসটি কাউকে হালকা করে ভয় দেখানোর জন্য নয়; বরং সালাতের জামাআত ত্যাগ করা যে গুরুতর বিষয়, তা স্পষ্ট করার জন্য। তাই একজন মুসলিমের উচিত জামাআতকে অবহেলা না করা। বিশেষ করে কোনো ওযর না থাকলে মসজিদে গিয়ে জামাআতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাআতে সালাত ত্যাগ করা গুরুতর অবহেলার বিষয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) জামাআতের গুরুত্ব বোঝাতে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন।
- সালাত কায়েমের পাশাপাশি জামাআতে উপস্থিতির গুরুত্ব আছে।
- ওযর না থাকলে জামাআতকে অবহেলা করা উচিত নয়।
