০/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯৫ - আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর জান্নাতী মর্যাদা
আবু বাক্র সিদ্দীক (রাঃ)- এর সম্মান
আবু বকর ও উমর (রাঃ): বয়স্ক জান্নাতীদের নেতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৯৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৯৫
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ إِلاَّ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ لاَ تُخْبِرْهُمَا يَا عَلِيُّ مَا دَامَا حَيَّيْنِ " .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আবু বাকর ও উমর নবী-রাসূলগণ ব্যতীত পূর্বাপর (সর্বকালের) সকল বয়স্ক জান্নাতীর নেতা হবে। হে আলী! তাঁদের জীবদ্দশায় তুমি তা তাঁদেরকে অবহিত করো না।
[৯৩] তিরমিযী ৩৬৬৫-৬৬, আহমাদ ৬০৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৮২৪। উক্ত হাদিসের রাবী১. হাসান বিন উমারাহ সম্পর্কে শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতীম আর-রাযী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।২. ফিরাস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আহমাদ বিন হাম্বল ও ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ কিন্তু তার হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি মুতকিন।৩. হারিস (বিন আব্দুল্লাহ) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আহমাদ বিন সালিহ আল মিসরী বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদীস থেকে দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। হাদিসটির শতাধিক শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৩ টি, ইবনু মাজাহ ২ টি, আহাদীসুল মুখতার ৫ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। সুতরাং সহীহ শাহিদ এর ভিত্তিতে হাদিসটি সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, তারা নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর সকল বয়স্ক জান্নাতীর নেতা হবেন। এরপর আলী (রাঃ)-কে বলেন, তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত এই সংবাদ তাদের জানাতে না। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর মর্যাদা খুব উঁচু। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজেই তাঁদের সম্মানের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে এখানে নবী-রাসূলদের আলাদা মর্যাদাও রাখা হয়েছে। সাহাবীদের মর্যাদা বোঝার ক্ষেত্রে এই হাদিস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জান্নাতের মর্যাদার সাথে তাঁদের নাম যুক্ত করেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর জান্নাতী মর্যাদা হাদিসে উল্লেখ আছে।
- নবী-রাসূলদের মর্যাদা আলাদা ও উচ্চ।
- সাহাবীদের সম্মান রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ভাষা থেকেই জানা যায়।
- মর্যাদার সংবাদও কখন, কাকে বলা হবে—এতে হিকমত থাকে।
