২২/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০০৪ - ঋণ মীমাংসা ও পাওনা আদায়
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ লাঘব করা মুস্তাহাব।
ঋণ মীমাংসা: ছাড় দেওয়া ও বাকি পরিশোধের ভারসাম্য
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০০৪
حديث كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ تَقَاضَى ابْنَ أَبِي حَدْرَدٍ دَيْنًا كَانَ لَهُ عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِدِ، فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتَّى سَمِعَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا حَتَّى كَشَفَ سِجْفَ حُجْرَتِهِ، فَنَادَى يَا كَعْبُ قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: ضَعْ مِنْ دَيْنِكَ هذَا وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ، أَيِ الشَّطْرَ، قَالَ: لَقَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: قُمْ فَاقْضِهِ
কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মসজিদের ভিতরে ইব্নু আবু হাদরাদ (রাঃ)-এর নিকট তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা করলেন। দুইজনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ উচ্চস্বরে কথাবার্তা হলো। এমনকি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তাঁর ঘর হতেই তাদের কথার আওয়াজ শুনলেন এবং তিনি পর্দা সরিয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে গেলেন। আর ডাক দিয়ে বললেনঃ হে কা‘ব! কা‘ব (রাঃ) উত্তর দিলেন, লাব্বাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমার পাওনা ঋণ হতে এতটুকু ছেড়ে দাও। আর হাতে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ। তখন কা‘ব (রাঃ) বললেনঃ আমি তাই করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি ইব্নু আবু হাদরাদকে বললেনঃ উঠ, আর বাকীটা দিয়ে দাও।
সহীহ বুখারী, পর্ব ৮; সালাত, অধ্যায় ৭১, হাঃ ৪৫৭; মুসলিম, পর্ব ২২; পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৫৫৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মসজিদের ভেতরে একটি ঋণ সংক্রান্ত ঘটনা এসেছে। কা‘ব (রাঃ) ইবনু আবু হাদরাদের কাছে নিজের পাওনা চাইছিলেন। কথাবার্তা উচ্চস্বরে হয়ে যায়, এমনকি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঘর থেকে তা শুনতে পান। তিনি বের হয়ে কা‘ব (রাঃ)-কে পাওনা ঋণের একটি অংশ ছেড়ে দিতে বলেন এবং ইশারায় অর্ধেক বোঝান। কা‘ব (রাঃ) তা মেনে নেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঋণগ্রহীতাকে বলেন, উঠে বাকি অংশ পরিশোধ করো। এই হাদিসে ঋণ মীমাংসার সুন্দর ভারসাম্য আছে—একদিকে ছাড়, অন্যদিকে দায়িত্বশীলভাবে বাকি ঋণ দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণ সংক্রান্ত বিবাদে ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করা ভালো।
- সক্ষম হলে পাওনার কিছু অংশ ছাড় দেওয়া প্রশংসনীয়।
- ঋণগ্রহীতার উচিত বাকি ঋণ পরিশোধে দায়িত্বশীল হওয়া।
- উচ্চস্বরে ঝগড়ার বদলে শান্ত সমাধান খোঁজা উচিত।
