২৭/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৭০ - কসম ভাঙা ও উত্তম কাজ বেছে নেওয়া
এটা (বৈধ) যে কেউ কোন কিছু করার কসম খেলো এবং পরেও অন্যটা করা ভালো দেখল তাহলে সে ভালোটা করবে এবং তার কসমের কাফফারা দিবে।
কসমের কাফফারা: উত্তম কাজ দেখলে কী করবেন?
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৭০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৭০
حديث أَبِي مُوسى عَنْ زَهْدَمٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسى فَأُتِيَ ذَكَرَ دَجَاجَةً، وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَيْمِ اللهِ أَحْمَرُ، كَأَنَّهُ مِنَ الْمَوَالِي، فَدَعَاهُ لِلطَّعَام، فَقَال: إِنِّي رَأَيْتُهُ يَأَكُل شَيْئًا فَقَذِرْتُهُ؛ فَحَلَفْتُ لاَ آكلُ فَقَالَ: هَلُمَّ فَلأُحَدِّثْكُمْ عَنْ ذَاك إِنِّي أَتَيْتُ النَبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَفَرٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ نَسْتَحْمِلهُ، فَقَالَ: وَاللهِ لاَ أَحْمِلُكمْ، وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ وَأُتِيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَهْبِ إِبِلٍ، فَسَأَلَ عَنَّا، فَقَالَ: أَيْنَ النَّفَرُ الأَشْعَرِيُّونَ فَأَمَرَ لَنَا بِخَمْسِ ذَوْدٍ، غُرِّ الذُّرَى، فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قلْنَا: مَا صَنَعْنَا لاَ يُبَارَكُ لَنَا فَرَجَعْنَا إِلَيْهِ، فَقُلْنَا: إِنَّا سَأَلْنَاكَ أَنْ تَحْمِلَنَا فَحَلَفْتَ أَنْ لاَ تَحْمِلَنَا، أَفَنَسِيتَ قَالَ: لَسْتُ أَنَا حَمَلْتُكُمْ، وَلكِنَّ اللهَ حَمَلَكُمْ، وَإِنِّي وَاللهِ إِنْ شَاءَ اللهُ، لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، وَتَحَلَّلْتُهَا
যাহদাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আবূ মূসা (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম, এ সময় মুরগীর (গোশত) সম্বন্ধে আলোচনা উঠল। তথায় তাইমুল্লাহ গোত্রের এমন লাল বর্ণের এক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিল, যেন সে মাওয়ালী (রোমক ক্রীতদাস)-দের একজন। তাকে খাওয়ার জন্য ডাকলেন। তখন সে বলল, আমি মুরগীকে এমন বস্তু খেতে দেখেছি, যাতে আমার ঘৃণা জন্মেছে। তাই আমি শপথ করেছি যে, তা খাব না।আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, আস, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে হাদীস শুনাচ্ছি। আমি কয়েকজন আশ‘আরী ব্যক্তির পক্ষে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট সাওয়ারী চাইতে যাই। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাদের সাওয়ারী দিব না এবং আমার নিকট তোমাদের দেয়ার মত কোন সাওয়ারীও নেই। এ সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট গনীমতের কয়েকটি উট আনা হলো। তখন তিনি আমাদের খোঁজ নিলেন এবং বললেন, সেই আশ‘আরী লোকেরা কোথায়? অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উঁচু সাদা চুলওয়ালা পাঁচটি উট আমাদের দিতে বললেন।যখন আমরা উট নিয়ে রওয়ানা দিলাম, বললাম, আমরা কী করলাম? আমাদের কল্যাণ হবে না। আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট ফিরে এলাম এবং বললাম, আমরা আপনার নিকট সাওয়ারীর জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন আপনি শপথ করে বলেছিলেন, আমাদের সাওয়ারী দিবেন না। আপনি কি তা ভুলে গেছেন? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদের সাওয়ারী দেইনি বরং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাওয়ারী দান করেছেন। আর আল্লাহ্র কসম, আমার অবস্থা এই যে, ইন্শাআল্লাহ্ কোন বিষয়ে আমি কসম করি এবং তার বিপরীতটি কল্যাণকর মনে করি, তখন সেই কল্যাণকর কাজটি আমি করি এবং কাফ্ফারা দিয়ে শপথ মুক্ত হই।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৮ : জিযইয়াহ কর ও রক্তপণ, অধ্যায় ১৫, হাঃ ৩১৩৩; মুসলিম, পর্ব ২৭ : কসম, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৬৩৯
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রথমে মুরগির গোশত না খাওয়ার শপথ করা এক ব্যক্তির ঘটনা আসে। আবূ মূসা (রাঃ) তাকে একটি ঘটনা শুনান। তিনি কয়েকজন আশআরী লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে সওয়ারী চেয়েছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে কসম করে বলেন, তিনি সওয়ারী দেবেন না এবং তাঁর কাছে দেওয়ার মতো কিছু নেই। পরে গনীমতের উট এলে তিনি তাদের পাঁচটি উট দেন। তারা ফিরে এসে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আল্লাহই তাদের সওয়ারী দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, তিনি কোনো বিষয়ে কসম করলে যদি তার চেয়ে ভালো কিছু দেখেন, তাহলে ভালো কাজটি করেন এবং কসম থেকে মুক্ত হন। এই হাদিস কসমের কাফফারা ও উত্তম সিদ্ধান্তের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসম করার পর ভালো পথ দেখা গেলে ভালো পথ গ্রহণ করা উচিত।
- কসম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কাফফারার বিষয় আছে।
- অভাবের সময় সিদ্ধান্ত এক রকম হতে পারে, পরে ব্যবস্থা এলে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।
- খাবার বা দৈনন্দিন বিষয়ে কসম করার আগে সতর্ক থাকা দরকার।
