২৭/১১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৭৯ - সৎ ক্রীতদাসের দ্বিগুণ সাওয়াব
গোলামের সওয়াব যখন সে মনিবের কল্যাণে ব্রতী হয় এবং আল্লাহর ইবাদত উত্তমরূপে করে।
সৎ ক্রীতদাসের দ্বিগুণ সাওয়াব: ইবাদত ও দায়িত্বের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৭৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৭৯
حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْعَبْدُ إِذَا نَصَحَ سَيِّدَهُ وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ، كَانَ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ক্রীতদাস যদি তার মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয় এবং তার প্রতিপালকের উত্তমরূপে ইবাদত করে, তাহলে তার সাওয়াব হবে দ্বিগুণ।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৯; ক্রীতদাস আযাদ করা, অধ্যায় ১৬, হাঃ ২৫৪৬; মুসলিম, পর্ব ২৭: কসম, অধ্যায় ১১, হাঃ ১৬৬৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, ক্রীতদাস যদি তার মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয় এবং তার রবের উত্তমরূপে ইবাদত করে, তাহলে তার সাওয়াব দ্বিগুণ হবে। এখানে দুটি দিক একসঙ্গে এসেছে। প্রথমটি হলো মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ—অর্থাৎ যার অধীনে কাজ করে, তার প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী থাকা। দ্বিতীয়টি হলো আল্লাহর ইবাদত সুন্দরভাবে করা। হাদিসটি দেখায়, কারও সামাজিক অবস্থান নিচু হলেও আল্লাহর কাছে তার আমলের মর্যাদা কম নয়। বরং সে যদি নিজের দায়িত্ব ঠিক রাখে এবং আল্লাহর ইবাদত ভালোভাবে করে, তার জন্য বিশেষ সাওয়াবের কথা বলা হয়েছে। এই শিক্ষা কর্ম, আনুগত্য, সততা ও ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর ইবাদত সুন্দরভাবে করা সব অবস্থায় জরুরি।
- দায়িত্বে হিতাকাঙ্ক্ষী থাকা সৎ চরিত্রের অংশ।
- সৎ ক্রীতদাসের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াবের কথা বলা হয়েছে।
- সামাজিক অবস্থান নয়, আমল ও দায়িত্বশীলতা আল্লাহর কাছে মূল্যবান।
