২৮/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৫ - হত্যার দাবিতে কসম ও ন্যায়ের শিক্ষা
আল-কাসামাহ
কাসামাহ ও বড়দের সম্মান: হত্যার ঘটনায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বিচার
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৮৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৮৫
حديث رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عَنْ بُشَيْرٍ بْنِ يَسَارِ، مَوْلَى الأَنْصَارِ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ: أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ أَتَيَا خَيْبَرَ، فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ، فَقُتِلَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَهْلٍ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنُ سَهْلٍ، وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ، فَبَدَأَ عَبْدُ الرَّحْمنِ، وَكَانَ أَصْغَرَ الْقَوْمِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَبِّرِ الْكُبْرَ (قَالَ يَحْيى أَحَدُ رِجَالِ السَّنَدِ: لِيَلِيَ الْكَلاَمَ الأَكْبَرُ) فَتَكلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَسْتَحِقُّون قَتِيلَكُمْ أُوْ قَالَ صَاحِبَكُمْ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْكُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ أَمْرٌ لَمْ نَرَهُ قَالَ: فَتُبْرِئُكُمْ يَهُودُ فِي أَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ فَوَدَاهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قِبَلِهقَالَ سَهْلٌ: فَأَدْرَكْتُ نَاقَةً مِنْ تِلْكَ الإِبِلِ، فَدَخَلَتْ مِرْبَدًا لَهُمْ فَرَكَضَتْنِي بِرِجْلِهَا
সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহ্ল ও মুহাইসাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) খাইবারে পৌঁছে উভয়েই খেজুরের বাগানের ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেলেন। সেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহ্ল (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহ্ল ও ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর দুই ছেলে হুওয়াইসাহ(রাঃ) ও মুহাইসাহ (রাঃ) নবী (ﷺ) -এর কাছে এলেন এবং তাঁর কাছে নিহত ব্যক্তির কথা বলতে লাগলেন। ‘আবদুর রহমান (রাঃ) কথা শুরু করলেন। তিনি ছোট ছিলেন, নবী (ﷺ) তাদের বললেনঃ তুমি বড়দের সম্মান করবে। বর্ণনাকারী ইয়াহিয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন।নবী (ﷺ) তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসমের মাধ্যমে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! এটা এমন বিষয় যা আমরা দেখিনি। তিনি বললেনঃ তাহলে ইয়াহূদীরা তাদের পঞ্চাশ জনের কসমের মাধ্যমে তোমাদের (দাবি) থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নবী (ﷺ) নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দিয়ে দিলেন। সাহ্ল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথি মারলো।
[কাসামা হল একটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বাদীর পক্ষ হয়ে ৫০ জন লোকের শপথ গ্রহণে যখন কোন সাক্ষী পাওয়া যায় না।] - সহীহুল বুখারী, পূর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৮৯, হাঃ ৬১৪২-৬১৪৩; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কাসামাহ, অধ্যায় ১, হাঃ ১৬৬৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাইবারে ঘটে যাওয়া এক হত্যার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাঃ) নিহত হলে তাঁর স্বজনরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। কথাবার্তার শুরুতে ছোট ব্যক্তি কথা বলতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, বড়দের সম্মান করো—অর্থাৎ কথা বলার ক্ষেত্রে বড়দের আগে সুযোগ দেওয়া হোক। এরপর হত্যার হক প্রমাণে পঞ্চাশ জনের কসমের কথা আসে। তারা সরাসরি ঘটনা দেখেননি বলে দ্বিধা প্রকাশ করেন। অন্য পক্ষের কসমের কথাও বলা হয়, কিন্তু তারা কাফির সম্প্রদায় বলে আপত্তি করেন। শেষ পর্যন্ত নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দেন। এতে বিচার, কসম, বড়দের আদব এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সময় বড়দের সম্মান করা উচিত।
- হত্যার মতো বড় দাবিতে প্রমাণ ও কসমের নিয়ম দেখা হয়।
- নিজে না দেখা বিষয়ে সতর্কতা রাখা সাহাবীদের আচরণে দেখা যায়।
- বিরোধ মেটাতে নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজ পক্ষ থেকে ফিদ্ইয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
