২৮/১১. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৯৫ - গর্ভস্থ সন্তানের রক্তপণ

পেটের বাচ্চার রক্তপণ, অনিচ্ছাকৃত হত্যার জন্য রক্তপণ প্রদানের অপরিহার্যতা ও শিবহে আমদের দিয়াত বা রক্তপণ অপরাধীর অভিভাবকের উপর ওয়াজিব।

গর্ভস্থ সন্তানের দিয়ত: হুযাইলের দুই নারীর ঘটনার শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৯৫

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضى فِي امْرَأَتَيْنِ مِنْ هُذَيْلٍ اقْتَتَلَتَا، فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بَحَجَرٍ، فَأَصَابَ بَطْنَهَا وَهِيَ حَامِلٌ، فَقَتَلَتْ وَلَدَهَا الَّذِي فِي بَطْنِهَا فَاخْتَصَمُوا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَضى أَنَّ دِيَةَ مَا فِي بَطْنِهَا غُرَّةٌ: عَبْدٌ أَوْ أَمَةٌ؛ فَقَالَ وَلِيُّ الْمَرْأَةِ الَّتِي غَرِمَتْ: كَيْفَ أَغْرَمُ، يَا رَسُولَ اللهِ مَنْ لاَ شَرِبَ وَلاَ أَكلَ، [ص: 184] وَلاَ نَطَقَ وَلاَ اسْتَهَلَّ، فَمِثْلُ ذَلِكَ بطَلَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّمَا هذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكهَّانِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার হুযাইল গোত্রের দুইজন মহিলার মধ্যে বিচার করেন। তারা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্যজনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের বাচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তিনি ফায়সালা দেন যে, এর পেটের সন্তানের বদলে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দিতে হবে। জরিমানা আরোপকৃত মহিলার অভিভাবক বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন হবে, যে পান করেনি, খাদ্য খায়নি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। এ অবস্থায় জরিমানা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এ তো (দেখছি) গণকদের ভাই।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৬ : চিকিৎসা, অধ্যায় ৪৬, হাঃ ৫৭৫৮; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কামাহ, অধ্যায় ১১, হাঃ ১৬৮১

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৯৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হুযাইল গোত্রের দুই নারীর মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা এসেছে। একজন অন্যজনের দিকে পাথর ছুড়ে। পাথরটি গর্ভবতী নারীর পেটে লাগে এবং তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। তারা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিচার নিয়ে আসে। নবী (صلى الله عليه وسلم) ফয়সালা দেন যে, গর্ভস্থ সন্তানের বদলে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দিতে হবে। জরিমানা যাঁর উপর ছিল, তাঁর অভিভাবক যুক্তি দেন—যে সন্তান পান করেনি, খায়নি, কথা বলেনি, কাঁদেনি, তার জন্য কেন জরিমানা? তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কথাকে গণকদের ভাইয়ের কথার সঙ্গে তুলনা করেন। হাদিসটি দেখায়, গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতিও বিচার ও দায়ের বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গর্ভস্থ সন্তানের প্রাণহানির বিষয় বিচারযোগ্য।
  • আঘাতের ফলে গর্ভপাত হলে দায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • বাহ্যিক যুক্তি দিয়ে ফয়সালা বাতিল করার চেষ্টা গ্রহণ করা হয়নি।
  • বিচারে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের হক বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন