৩০/১০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২১ - বিচারিক প্রজ্ঞা ও সত্য মায়ের পরিচয়
মুজতাহিদদের মতভেদ প্রসঙ্গে।
বিচারিক প্রজ্ঞা: সুলায়মান আ.-এর রায়ে সত্য মায়ের পরিচয়
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১২১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْب فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ صَاحِبَتُهَا إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، وَقَالَتِ الأُخْرَى إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ؛ فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ، فَقَضى بِهِ لِلْكُبْرَى؛ فَخَرَجَتَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ، فَأَخْبَرَتَاهُ فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّهُ بَيْنَهُمَا، فَقَالَتِ الصُغْرَى: لاَ تَفْعَلْ، يَرْحَمُكَ اللهُ، هُوَ ابْنُهَا فَقَضى بِهِ لِلصُّغْرَى
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
দুইজন মহিলা ছিল। তাদের সাথে দুইটি সন্তানও ছিল। হঠাৎ একটি বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলে নিয়ে গেল। সঙ্গের একজন মহিলা বললো, “তোমার ছেলেটিই বাঘে নিয়ে গেছে।” অন্য মহিলাটি বললো, “না, বাঘে তোমার ছেলেটি নিয়ে গেছে।” অতঃপর উভয় মহিলাই দাঊদ (আঃ)-এর নিকট এ বিরোধ মীমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হলো। তখন তিনি ছেলেটির বিষয়ে বয়স্কা মহিলাটির পক্ষে রায় দিলেন।অতঃপর তারা উভয়ে বেরিয়ে দাউদ (আঃ)-এর পুত্র সুলায়মান (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যেতে লাগল এবং তারা দুইজনে তাঁকে ব্যাপারটি জানালেন। তখন তিনি লোকদেরকে বললেন, তোমরা আমার নিকট একখানা ছোরা নিয়ে আস। আমি ছেলেটিকে দুই টুক্রা করে তাদের দুইজনের মধ্যে ভাগ করে দেই। এ কথা শুনে অল্প বয়স্কা মহিলাটি বলে উঠলো, তা করবেন না, আল্লাহ্ আপনার উপর রহম করুন। ছেলেটি তারই। তখন তিনি ছেলেটি সম্পর্কে অল্প বয়স্কা মহিলাটির অনুকূলে রায় দিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬০: নবীগণের (আঃ) হাদীসসমূহ, অধ্যায় ৪০, হাঃ ৩৪২৭; মুসলিম, পর্ব ৩০: বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ১০, হাঃ ১৭২০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিচারিক প্রজ্ঞা। এখানে দুই নারীর সন্তানের দাবি নিয়ে বিরোধ দেখা যায়। দাঊদ আ.-এর কাছে বিষয়টি গেলে তিনি বয়স্কা নারীর পক্ষে রায় দেন। পরে সুলায়মান আ. এমন একটি কথা বলেন, যা শুনে অল্প বয়সী নারী সন্তানের প্রাণ বাঁচানোর জন্য নিজের দাবি ছেড়ে দেন। এই মমতাই তার সত্য মায়ের পরিচয় প্রকাশ করে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ন্যায়বিচার শুধু বাহ্যিক কথার উপর দাঁড়ায় না; অনেক সময় মানুষের আচরণ, দয়া ও দায়িত্ববোধ সত্য বোঝার পথ খুলে দেয়। বিচারিক প্রজ্ঞা, সন্তানের প্রতি মায়ের মমতা এবং বিরোধ মীমাংসা—এসব বিষয় এখানে খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ন্যায়বিচারে কথা শোনার পাশাপাশি আচরণও বুঝতে হয়।
- সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে মায়ের মমতা নিজের দাবির চেয়েও বড় হয়ে ওঠে।
- বিরোধ হলে জ্ঞানী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে মীমাংসা চাওয়া ভালো।
- প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনেক সময় লুকানো সত্য প্রকাশ করে।
