৩৩/৭. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২০২ - কর্মচারীর হাদিয়া ও আমানতের সতর্কতা

কর্মচারীর হাদিয়া গ্রহণ হারাম।

কর্মচারীর হাদিয়া গ্রহণ: দায়িত্ব ও আমানতদারির শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২০২

حديث أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَعْمَلَ عَامِلاً، فَجَاءَهُ الْعَامِلُ حِينَ فَرَغَ مِنْ عَمَلِهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ هذَا لَكُمْ، وَهذَا أُهْدِيَ لِي فَقَالَ لَهُ: أَفَلاَ قَعَدْتَ فِي بَيْتِ أَبيكَ وَأُمِّكَ فَنَظَرْتَ أَيُهْدَى لَكَ أَمْ لاَ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشِيَّةً، بَعْدَ الصَّلاَةِ، فَتَشَهَّدَ وَأَثْنَى عَلَى اللهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَمَا بَالُ الْعَامِلِ نَسْتَعْمِلُهُ فَيَأْتِينَا فَيَقُولُ هذَا مِنْ عَمَلِكمْ، وَهذَا أُهْدِيَ لِي، أَفَلاَ قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَنَظَرَ هَلْ يُهْدَى لَهُ أَمْ لاَ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَغُلُّ أَحَدُكُمْ مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى عُنُقِهِ، إِنْ كَانَ بَعِيرًا جَاءَ بِهِ لَهُ رُغَاءٌ، وَإِنْ كَانَتْ بَقَرَةً جَاءَ بِهَا لَهَا خوَارٌ، وَإِنْ كَانَتْ شَاةً جَاءَ بِهَا تَيْعَرُ، فَقَدْ بَلَّغْتُفَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ حَتَّى إِنَّا لَنَنْظُرُ إِلَى عُفْرَةِ إِبْطَيْهِ

আবূ হুমায়দ আস্ সা'ইদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে রাজস্ব আদায়কারী নিযুক্ত করে পাঠালেন। সে কাজ শেষ করে তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! এটা আপনার জন্য আর এ জিনিসটি আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি তোমার মা-বাবার ঘরে বসে রইলে না কেন? তা হলে তোমার জন্য হাদিয়া পাঠাত কিনা তা দেখতে পেতে?এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এশার ওয়াক্তের সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাশাহ্‌হুদ পাঠ করলেন ও আল্লাহ্ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। এরপর বললেনঃ রাজস্ব আদায়কারীর অবস্থা কি হল? আমি তাকে নিযুক্ত করে পাঠালাম আর সে আমাদের কাছে এসে বলছে, এটা সরকারী রাজস্ব আর এ জিনিস আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। সে তার বাবা-মার ঘরে বসেই রইল না কেন? তাহলে দেখত তার জন্য হাদিয়া দেয়া হয় কি না? ঐ মহান সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ যদি কোন বস্তুতে সামান্যতম খিয়ানত করে, তা হলে কিয়ামতের দিন সে ঐ বস্তুটিকে তার কাঁধে বহন করা অবস্থায় আসবে।সে বস্তুটি যদি উট হয় তা হলে উট আওয়াজ করতে থাকবে। যদি গরু হয় তবে হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে। আর যদি বকরী হয় তবে বকরী আওয়াজ করতে থাকবে। আমি পৌঁছে দিলাম। রাবী আবূ হুমায়দ (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর হস্ত মুবারক এতটুকু উত্তোলন করলেন যে, আমরা তাঁর দুইবগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৩: অঙ্গীকার ও নয়র, অধ্যায় ৩, হাঃ ৬৬৩৬; মুসলিম, পর্ব ৩৩ : ইমারাত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৮৩২

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২০২-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: কর্মচারীর হাদিয়া। এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একজন ব্যক্তিকে রাজস্ব আদায়ের কাজে পাঠিয়েছিলেন। সে ফিরে এসে বলল, কিছু মাল সরকারি, আর কিছু তাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) খুব সহজ প্রশ্ন করলেন: সে যদি বাবা-মায়ের ঘরে বসে থাকত, তাহলে কি তাকে এই হাদিয়া দেওয়া হতো? এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, দায়িত্বের কারণে পাওয়া উপহারকে ব্যক্তিগত মাল ভাবা নিরাপদ নয়। এরপর তিনি খিয়ানতের ভয়াবহ পরিণতি বললেন। সামান্য জিনিসও অন্যায়ভাবে নিলে কিয়ামতের দিন তা কাঁধে বহন করে আসতে হবে। এই হাদিস সরকারি দায়িত্ব, অফিসের কাজ, রাজস্ব, আমানত এবং ব্যক্তিগত লাভের সীমা বোঝায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দায়িত্বের কারণে পাওয়া উপহারকে নিজের হক মনে করা ঠিক নয়।
  • সরকারি বা দায়িত্বভিত্তিক সম্পদে খিয়ানত করা ভয়ংকর বিষয়।
  • কোনো জিনিস সামান্য হলেও অন্যায়ভাবে নেওয়া উচিত নয়।
  • দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে স্বচ্ছ ও আমানতদার হতে হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন