৩৩/৪১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৪২ - কুরআন শিক্ষা, দাওয়াত ও শহীদদের মর্যাদা
শহীদ জান্নাতে যাবে তার প্রমাণ।
দাওয়াতের পথে শাহাদাত: কুরআন শিক্ষকদের ঘটনা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৪২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৪২
حديث أَنَسِ رضي الله عنه، قَالَ: بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْوَامًا مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ إِلَى بَنِي عَامِرٍ، فِي سَبْعِينَ فَلَمَّا قَدِمُوا، قَالَ لَهُمْ خَالِي: أَتَقَدَّمُكُمْ، فَإِنْ أَمَّنُونِي حَتَّى أُبَلِّغَهُمْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِلاَّ كُنْتُمْ مِنِّي قَرِيبًا فَتَقَدَّمَ، فَأَمَّنُوهُ فَبَيْنَمَا يُحَدِّثُهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ أَوْمَئُوا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ، فَطَعَنَهُ فَأَنْفَذَهُ، فَقَالَ: اللهُ أَكْبَرُ فُزْتُ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ثُمَّ مَالوا عَلَى بَقِيَّةِ أَصْحَابِهِ فَقَتَلُوهُمْ، إِلاَّ رَجُلٌ أَعْرَجُ صَعِدَ الْجَبَلَ قَالَ هَمَّامٌ (أَحَدُ رِجَالِ السَّنَدِ) فَأُرَاهُ آخَرَ مَعَهُ؛فَأَخْبَرَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمْ قَدْ لَقُوا رَبَّهُمْ فَرَضِيَ عَنْهُمْ وَأَرْضَاهُمْ فَكُنَّا نَقْرَأُ أَنْ بَلِّغُوا قَوْمَنَا، أَنْ قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا، فَرَضِيَ عَنَّا، وَأَرْضَانَا ثُمَّ نُسِخَ بَعْدُ فَدَعَا عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا، عَلَى رِعْلٍ، وَذَكْوَانَ، وَبَنِي لِحْيَانَ، وَبَنِي عُصَيَّةَ الَّذِينَ عَصَوُا اللهَ وَرَسُولَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বানূ সুলায়মের সত্তর জন লোকের একটি দলকে কোরআন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশে বানূ ‘আমিরের নিকট পাঠান। দলটি সেখানে পৌঁছলে আমার মামা (হারাম ইব্নু মিলহান) তাদেরকে বললেন, আমি সর্বাগ্রে বনূ আমিরের নিকট যাব। যদি তাঁরা আমাকে নিরাপত্তা দেয় আর আমি তাদের নিকট আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর বাণী পৌঁছাতে পারি, (তবে তো ভাল) অন্যথায় তোমরা আমার কাছেই থাকবে।অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন। কাফিররা তাঁকে নিরাপত্তা দিল, কিন্তু তিনি যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর বাণী শুনাতে লাগলেন, সেই সময় আমির গোত্রীয়রা এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করল। আর সেই ব্যক্তি তাঁর প্রতি তীর মারল এবং তীর শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন আল্লাহু আকবার, কাবার রবের কসম! আমি সফলকাম হয়েছি। অতঃপর কাফিররা তাঁর অন্যান্য সঙ্গীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং সকলকে শহীদ করল। কিন্তু একজন খোঁড়া ব্যক্তি বেঁচে গেলেন, তিনি পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন। হাম্মাম (রহঃ) অতিরিক্ত উল্লেখ করেন, আমার মনে হয় তাঁর সঙ্গে অন্য একজন ছিলেন।অতঃপর জিব্রীল (আঃ) নবী (ﷺ)-কে খবর দিলেন যে, প্রেরিত দলটি তাদের রবের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তিনি (রব) তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাদের সন্তুষ্ট করেছেন। (রাবী বলেন) আমরা এ আয়াতটি পাঠ করতাম, আমাদের কাওমকে জানিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের রবের সঙ্গে মিলিত হয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরও সন্তুষ্ট করেছেন। পরে এ আয়াতটি মানসুখ হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ক্রমাগত চল্লিশ দিন রি‘ল, যাকওয়ান, বানূ লিহয়ান ও বানূ উসাইয়্যার বিরুদ্ধে দোয়া করেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ৯, হাঃ ২৮০১; মুসলিম, পর্ব ৩৩: ইমারত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ৪১, হাঃ ৬৭৭
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন শিক্ষা, দাওয়াত এবং শাহাদাতের একটি গভীর ঘটনা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم বানূ সুলায়মের সত্তরজনকে বানূ আমিরের কাছে কুরআন শেখাতে পাঠান। হারাম ইবনু মিলহান আগে এগিয়ে যান, যাতে নিরাপত্তা পেলে তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বাণী পৌঁছাতে পারেন। তারা নিরাপত্তা দিলেও পরে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে আঘাত করে। তিনি আঘাতের পর আল্লাহু আকবার বলে কাবার রবের কসম করে সফলতার কথা বলেন। এরপর অন্য সাথীরাও শহীদ হন, অল্প কয়েকজন ছাড়া। হাদিসে আরও এসেছে, জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী صلى الله عليه وسلم-কে তাঁদের রবের সঙ্গে মিলিত হওয়ার, আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার খবর দেন। এই বর্ণনা আমাদের দাওয়াতের দায়িত্ব, কুরআন শিক্ষার মর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দুআর শিক্ষা দেয়। ঘটনাটি আমাদের মনে করায়, দাওয়াতের কাজেও সতর্কতা ও আল্লাহর উপর ভরসা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন শেখানো ও রাসূলের বাণী পৌঁছানো বড় দায়িত্ব।
- নিরাপত্তা দেওয়ার পর বিশ্বাসঘাতকতা করা গুরুতর অন্যায়।
- শহীদদের বিষয়ে হাদিসে আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট গোত্রের জন্য দুআ করেছেন।
