৩৫/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৪ - নিজ হাতে কুরবানী ও বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার
কুরবানির জন্তু কারো মাধ্যম ছাড়া নিজ হাতে যবহ করা মুস্তাহাব এবং যবহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলা।
নিজ হাতে কুরবানী: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৮৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৮৪
حديث أَنَسٍ، قَالَ: ضَحَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ، ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ، وَسَمَّى وَكَبَّرَ، وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) দুইটি সাদা-কালো বর্ণের শিং বিশিষ্ট ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি ভেড়া দুইটির পার্শ্বদেশ তাঁর পায়ে স্থাপন করে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে নিজ হাতেই সেই দুইটিকে যবহ করেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৩: অঙ্গীকার ও নযর, অধ্যায় ১৪, হাঃ ৫৫৬৫; মুসলিম, পর্ব ৩৫: কুরবানী, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৯৬৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কুরবানী করার পদ্ধতির একটি সরাসরি বর্ণনা এসেছে। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) দুইটি সাদা-কালো বর্ণের শিংওয়ালা ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি নিজ হাতে ভেড়া দুইটি যবেহ করেন। যবেহের সময় তিনি পশুর পার্শ্বদেশে পা রাখেন এবং ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেন। এই বর্ণনা থেকে কুরবানীর সময় আল্লাহর নাম নেওয়ার গুরুত্ব পরিষ্কার হয়। একই সঙ্গে বোঝা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজ হাতে কুরবানী করেছেন, যা কুরবানীর কাজে মনোযোগ ও সরাসরি অংশ নেওয়ার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। তবে হাদিসে যতটুকু এসেছে, আমরা ততটুকুই বলি: তিনি দুইটি শিংওয়ালা ভেড়া কুরবানী করেছেন, আল্লাহর নাম নিয়েছেন, তাকবীর বলেছেন এবং নিজ হাতে যবেহ করেছেন। তাই কুরবানী শুধু পশু জবাই নয়; এটি আল্লাহর নাম স্মরণ করে করা একটি ইবাদত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানীর সময় আল্লাহর নাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজ হাতে কুরবানী করেছেন।
- যবেহের সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল।
- কুরবানীর কাজে মনোযোগ ও আদব রক্ষা করা উচিত।
