৩৬/৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯৮ - নবীযের পাত্র ও শোনা কথা ঠিকভাবে বলা
আলকাতরা মাখানো পাত্রে, কদুর বোলে, সবুজ কলস ও কাঠের বোলে নাবিজ বানানো নিষিদ্ধ এবং এ বিধান রহিত হয়ে যাওয়া ও বর্তমানে এটা হালাল যতক্ষণ না তা মাতাল করে।
নবীযের পাত্র: দুব্বা-মুযাফফাত এবং বর্ণনায় সততা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৯৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৯৮
حديث عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قُلْتُ لِلأَسْوَدِ: هَلْ سَأَلْتَ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَمَّا يُكْرَهُ أَنْ يُنْتَبَذَ فِيهِ فَقَالَ: نَعَمْ، قُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَمَّا نَهى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُنْتَبَذَ فِيهِ قَالَتْ: نَهَانَا فِي ذَلِكَ، أَهْلَ الْبَيْتِ، أَنْ نَنْتَبِذَ فِي الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ قُلْتُ: أَمَا ذَكَرَتِ الْجَرَّ وَالْحَنْتَمَ قَالَ: إِنَّمَا أُحَدِّثُكَ مَا سَمِعْتُ؛ أُحَدِّثُ مَا لَمْ أَسْمَعْ
ইব্রাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আসওয়াদকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনি কি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কোন্ কোন্ পাত্রের মধ্যে ‘নবীয’ তৈরী করা মাকরূহ। তিনি উত্তর করলেনঃ হাঁ। আমি বলেছিলাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! কোন্ কোন্ পাত্রের মধ্যে নবী (ﷺ) নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন? তখন তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) আমাদের অর্থাৎ আহলে বায়তকে দুব্বা (কদু বা লাউয়ের খোলস) ও মুযাফ্ফাত (আলকাতরার প্রলেপ দেয়া পাত্র) নামক পাত্রে নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন।(ইবরাহীম বলেন) আমি বললামঃ ‘আয়িশা (রাঃ) কি জার (মাটির কলসী) ও হানতাম (মাটির সবুজ পাত্র) নামক পাত্রের কথা উল্লেখ করেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা শুনেছি কেবল তাই তোমাকে বর্ণনা করেছি। আমি যা শুনি নি তাও কি আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব?
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৪; পানীয়, অধ্যায় ৮, হাঃ ৫৫৯৫; মুসলিম, পর্ব ৩৬ : পানীয়, অধ্যায় ৬, হাঃ ১৯৯৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবীযের পাত্রের নিষেধের সঙ্গে বর্ণনায় সততার সুন্দর শিক্ষা আছে। ইবরাহীম বলেন, তিনি আসওয়াদকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে কোন পাত্রে নবীয তৈরি করা মাকরূহ। আসওয়াদ বলেন, হ্যাঁ। আয়িশা (রাঃ) জানালেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) আহলে বায়তকে দুব্বা, অর্থাৎ কদু বা লাউয়ের খোলস, এবং মুযাফফাত, অর্থাৎ আলকাতরা মাখানো পাত্রে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। এরপর জার ও হানতাম পাত্রের কথা জানতে চাইলে আসওয়াদ বলেন, আমি যা শুনেছি কেবল তাই তোমাকে বলছি; যা শুনিনি, তা কি বলব? এখানে দুটি শিক্ষা আছে: এক, নির্দিষ্ট পাত্রে নবীয তৈরির নিষেধ; দুই, দ্বীনের কথা বলতে হলে যা জানা আছে সেটাই বলা, না জানা কথা না বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুব্বা ও মুযাফফাত পাত্রে নবীয তৈরি করতে নিষেধ এসেছে।
- দ্বীনের বিষয়ে যা শোনা হয়নি, তা বর্ণনা করা উচিত নয়।
- রাবীরা হাদিস বর্ণনায় সতর্কতা বজায় রাখতেন।
- প্রশ্নের জবাবে জানা কথা বলা এবং অজানা বিষয়ে থেমে যাওয়া ভালো।
