৪০/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৫৩ - খবীস না বলে কলুষিত বলার শিক্ষা
কোন মানুষের এ কথা বলা মাকরূহ- আমার আত্মা বিনষ্ট হয়ে গেছে।
খবীস না বলে কলুষিত: নিজের সম্পর্কে ভাষা ব্যবহারের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৫৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৪৫৩
حديث سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ خَبُثَتْ نَفْسِي، وَلكِنْ لِيَقُلْ لَقِسَتْ نَفْسِي
সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সাবধান! তোমাদের কেউ যেন এ কথা না বলে, আমার আত্মা ‘খবীস’ হয়ে গেছে। বরং সে বলবেঃ আমার আত্মা কলুষিত হয়েছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ১০০, হাঃ ৬১৮০; মুসলিম, পর্ব ৪০ : সৌজন্যমূলক কথা বলা ইত্যাদি, অধ্যায় ৪, হাঃ ২২৫১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৫৩-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ভাষার আদব। এই হাদিসটি আগের বর্ণনার মতো একই মূল শিক্ষা বহন করে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ যেন না বলে—আমার আত্মা খবীস হয়ে গেছে। বরং বলবে—আমার আত্মা কলুষিত হয়েছে। এখানে নিজের মন বা আত্মার অবস্থা নিয়ে কথা বলার পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। অনেক সময় মানুষ নিজের ভুল, কষ্ট বা অস্থিরতা বুঝাতে কঠিন শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) এমন শব্দ বেছে নিতে বলেছেন, যা অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু ভাষায় কটু ভাব কম রাখে। ইসলামে মুখের কথা শুধু অন্যকে আঘাত না করার জন্য নয়; নিজের ক্ষেত্রেও শব্দের আদব আছে। তাই এই হাদিস মুসলিমকে সুন্দর, সংযত ও পরিষ্কার ভাষার দিকে ডাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের আত্মার জন্য ‘খবীস’ শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- একই ভাব নরম শব্দে প্রকাশ করা যায়।
- ভাষার শুদ্ধতা দৈনন্দিন জীবনের আদবের অংশ।
- নিজের মন খারাপ হলেও শব্দ নির্বাচনে সতর্ক থাকা দরকার।
