৪৩/৩. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৬৯ - তাবূক, মদীনা ও আনসারদের মর্যাদা

নবী (ﷺ)-এর মু‘জিযাসমূহ।

তাবূকের ঘটনা: সতর্কতা, মদীনার ভালোবাসা ও আনসারদের সম্মান

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৪৬৯

حديث أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ: غَزَوْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ تَبُوكَ فَلَمَّا جَاءَ وَادِيَ الْقُرَى، إِذَا امْرَأَةٌ فِي حَدِيقَةٍ لَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لأَصْحَابِهِ اخْرُصُوا وَخَرَصَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَةَ أَوْسُقٍ فَقَالَ لَهَا: أَحْصِي مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَلَمَّا أَتَيْنَا تَبُوكَ، قَالَ: أَمَا إِنَّهَا سَتَهُبُّ اللَّيْلَةَ رِيحٌ شَدِيدَةٌ، فَلاَ يَقُومَنَّ أَحَدٌ، وَمَنْ كَانَ مَعَهُ [ص: 91] بَعِيرٌ فَلْيَعْقِلْهُ فَعَقَلْنَاهَا وَهَبَّتْ رِيحٌ شَدِيدَةٌ؛ فَقَامَ رَجُلٌ فَأَلْقَتْهُ بِجَبَلِ طَيِّءوَأَهْدَى مَلِكُ أَيْلَةَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَغْلَةً بَيْضَاءَ، وَكَسَاهُ بُرْدًا وَكَتَبَ لَهُ بِبَحْرِهِمْفَلَمَّا أَتى وَادِيَ الْقُرَى، قَالَ لِلْمَرْأَةِ: كَمْ جَاءَ حِدِيقَتُكِ قَالَتْ: عَشَرَةَ أَوْسُقٍ، خَرْصَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي مُتَعَجِّلٌ إِلَى الْمَدِينَةِ، فَمَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ أَنْ يَتَعَجَّلَ مَعِي فَلْيَتَعَجَّلْفَلَمَّا أَشْرَفَ عَلَى الْمَدِينَةِ، قَالَ: هذِهِ طَابَةُ فَلَمَّا رَأَى أُحُدًا، قَالَ: هذَا جُبَيْلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ، أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ دُورِ الأَنْصَارِ قَالُوا: بَلَى قَالَ: دُورُ بَنِي النَّجَّارِ، ثُمَّ دُورُ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ، ثُمَّ دُورُ بَنِي سَاعِدَةَ، أَوْ دُورُ بَنِي الْحارثِ بْنِ الْخَزْرَجِ، وَفِي كُلِّ دُورِ الأَنْصَارِ يَعْنِي خَيْرًافَلَحِقْنَا سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ: أَلَمْ تَرَ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، خَيَّرَ الأَنْصَارَ فَجَعَلَنَا أَخِيرًا فَأَدْرَكَ سَعْدٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ خُيِّرَ دُورُ الأَنْصَارِ فَجُعِلْنَا آخِرًا فَقَالَ: أَوَلَيْسَ بِحَسْبكُمْ أَنْ تَكُونُوا مِنَ الْخِيَارِ

আবূ হুমায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে তাবূকের যুদ্ধে শরীক হয়েছি। যখন তিনি ওয়াদিউল কূরা নামক স্থানে পৌছলেন, তখন এক মহিলা তার নিজের বাগানে উপস্থিত ছিল। নবী (ﷺ) সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা এই বাগানের ফলগুলোর পরিমাণ আন্দাজ কর। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজে দশ ওয়াসাক পরিমাণ আন্দাজ করলেন। অতঃপর মহিলাকে বললেনঃ উৎপন্ন ফলের হিসাব রেখ।আমরা তাবূক পৌছলে, তিনি বললেনঃ সাবধান! আজ রাতে প্রবল ঝড় প্রবাহিত হবে। কাজেই কেউ যেন দাঁড়িয়ে না থাকে এবং প্রত্যেকেই যেন তার উট বেঁধে রাখে। তখন আমরা নিজ নিজ উট বেঁধে নিলাম। প্রবল ঝড় হতে লাগল। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলে ঝড় তাকে ত্বাই নামক পর্বতে নিক্ষেপ করল। আয়লা নগরীর শাসনকর্তা নবী (ﷺ) এর জন্যে একটি সাদা খচ্চর এবং একটি চাদর হাদিয়া দিলেন। আর নবী (ﷺ) তাকে সেখানকার শাসনকর্তারূপে বহাল থাকার লিখিত নির্দেশ দিলেন।(ফেরার পথে) ওয়াদিউল কুরা পৌঁছে সেই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার বাগানে কি পরিমাণ ফল হয়েছে? মহিলা বলল, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর অনুমিত পরিমাণ দশ ওয়াসাকই হয়েছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি দ্রুত মাদীনায় পৌছাতে ইচ্ছুক। তোমরা কেউ আমার সাথে দ্রুত যেতে চাইলে দ্রুত কর।অতঃপর যখন তিনি মাদীনা দেখতে পেলেন তখন বললেনঃ এটা ত্বাবাহ (মাদীনার অপর নাম)। এরপর যখন তিনি উহুদ পর্বত দেখতে পেলেনঃ এই পর্বত আমাদেরকে ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি। আনসারদের সর্বোত্তম গোত্রটি সম্পর্কে আমি তোমাদের খবর দিব কি? তাঁরা বলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ বনু নাজ্জার গোত্র, অতঃপর বনু ‘আবদুল আশহাল গোত্র, এরপর বনু সা’ইয়ীদা গোত্র অথবা বনু হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র। আনসারদের সকল গোত্রেই কল্যাণ রয়েছে।[আবূ হুমায়দ (রাঃ) বলেন,] আমরা সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন আবূ উসায়দ (রাঃ) বলেন, আপনি কি শুনেননি যে, নবী (ﷺ) আনসারদের পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আমাদেরকে সকলের শেষ পর্যায়ে স্থান দিয়েছেন? তা শুনে সা’দ (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! আনসার গোত্রগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে সকলের শেষ স্তরে স্থান দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটা কি তোমাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, তোমরাও শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ?

সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৪; যাকাত, অধ্যায় ৫৪, হাঃ ১৪৮১ ও পর্ব ৬৩; অধ্যায় ৭, হাঃ ৩৭৯১; মুসলিম, পর্ব ৪৩: ফাযায়েল, অধ্যায় ৩, হাঃ নং ১৩৯২

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৬৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে তাবূক সফরের কয়েকটি ঘটনা একসঙ্গে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) ওয়াদিউল কূরায় এক বাগানের ফল দশ ওয়াসাক আন্দাজ করেন এবং পরে সেটিই ঠিক হয়। তাবূকে তিনি রাতে প্রবল ঝড়ের সতর্কতা দেন এবং উট বেঁধে রাখতে বলেন। এক ব্যক্তি দাঁড়ালে ঝড় তাকে দূরে নিক্ষেপ করে। ফেরার পথে তিনি মদীনাকে ত্বাবাহ বলেন, উহুদ পাহাড় দেখে বলেন, এটি আমাদের ভালোবাসে, আমরাও তাকে ভালোবাসি। এরপর তিনি আনসারদের গোত্রগুলোর কল্যাণের কথা বলেন। হাদিসটি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সতর্ক নির্দেশ মানা, মদীনার মর্যাদা এবং আনসারদের সম্মান শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সতর্ক নির্দেশ গুরুত্ব দিয়ে মানা উচিত।
  • তাবূক সফরে ঝড়ের বিষয়ে আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
  • মদীনা ও উহুদের প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ভালোবাসা হাদিসে এসেছে।
  • আনসারদের সব গোত্রেই কল্যাণ আছে বলে বর্ণিত হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন