৪৩/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৭৯ - হাউয থেকে সরিয়ে নেওয়া ও দ্বীনে স্থিরতা
নবী (ﷺ)-এর জন্য “হাউজ” এর প্রমাণ ও তার বৈশিষ্ট্য।
দ্বীনে স্থিরতা: হাউযের ধারে সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৭৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৪৭৯
حديث أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي عَلَى الْحَوْضِ حَتَّى أَنْظُرَ مَنْ يَرِدُ عَلَيَّ مِنْكُمْ، وَسَيُؤْخَذُ نَاسٌ دُونِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ مِنِّي ومِنْ أُمَّتِي فَيُقَالُ: هَلْ شَعَرْتَ مَا عَمِلُوا بَعْدَكَ، وَاللهِ مَا بَرِحُوا يَرْجِعُونَ عَلَى أَعْقَابِهِمْفَكَانَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ (رَاوِي هذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَسْمَاءَ) يَقُولُ: اللهُمَّ إِنَّا نعُوذُ بِكَ أَنْ نَرْجِعَ عَلَى أَعْقَابِنَا، أَوْ نُفْتَنَ عَنْ دِينِنَا
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আমি হাউযের ধারে থাকব। তোমাদের মাঝ থেকে যারা আমার কাছে আসবে আমি তাদেরকে দেখতে পাব। কিছু লোককে আমার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, হে প্রভু! এরা আমার লোক, এরা আমার উম্মাত। তখন বলা হবে, তুমি কি জান তোমার পরে এরা কী সব করেছে? আল্লাহ্র কসম! এরা দ্বীন থেকে সর্বদাই পশ্চাদমুখী হয়েছিল। তখন ইব্নু আবূ মুলায়কা বললেন, হে আল্লাহ্! দ্বীন থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করা থেকে অথবা দ্বীনের ব্যাপারে ফিত্নায় পতিত হওয়া থেকে আমরা তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮১; সদয় হওয়া, অধ্যায় ৫৩, হাঃ ৬৫৯৩; মুসলিম, পা ৪৩: ফাযায়েল, অধ্যায় ৯, হাঃ ২২৯৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি হাউযের ধারে থাকবেন এবং উম্মতের লোকদের দেখতে পাবেন। কিন্তু কিছু লোককে তাঁর সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলবেন, হে রব, এরা আমার লোক, আমার উম্মত। তখন বলা হবে, আপনার পরে তারা কী করেছে তা কি আপনি জানেন? তারা দ্বীন থেকে পেছনে ফিরেছিল। এরপর রাবী ইবনু আবূ মুলায়কা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন—দ্বীন থেকে ফিরে যাওয়া বা দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনায় পড়া থেকে। এই হাদিস মুসলিমকে আত্মতুষ্টি থেকে বাঁচায় এবং দ্বীনের উপর স্থির থাকার দোয়া শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীন থেকে পেছনে ফিরে যাওয়া ভয়াবহ বিষয়।
- উম্মতের পরিচয় থাকলেও আমলের কারণে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
- ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া দরকার।
- হাউযের আশা রাখার সঙ্গে দ্বীনে স্থির থাকার চেষ্টা দরকার।
