৪৩/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৮৬ - আয়লা থেকে সান‘আ পর্যন্ত হাউয
নবী (ﷺ)-এর জন্য “হাউজ” এর প্রমাণ ও তার বৈশিষ্ট্য।
হাউযে কাউসারের পরিমাণ ও তারকারাজির মতো পানপাত্র
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৮৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৪৮৬
حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ قَدْرَ حَوْضِي كَمَا بَيْنَ أَيْلَةَ وَصَنْعَاءَ مِنَ الْيَمَنِ، وَإِنَّ فِيهِ مِنَ الأَبَارِيقِ، كَعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার হাউযের পরিমাণ হল ইয়ামানের আয়লা ও সান‘আ নামক স্থানদ্বয়ের দূরত্বের সমান আর তার পানপাত্র সমূহ আকাশের তারকারাজির সংখ্যাতুল্য।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮১: সদয় হওয়া, অধ্যায় ৫৩, হাঃ ৬৫৮০; মুসলিম, পর্ব ৪৩: ফাযায়েল, অধ্যায় ৯, হাঃ ২৩০৩
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাউযে কাউসারের দুইটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। প্রথমত, তার পরিমাণ ইয়ামানের আয়লা ও সান‘আ নামক স্থানের দূরত্বের মতো। দ্বিতীয়ত, তার পানপাত্র আকাশের তারকারাজির সংখ্যাতুল্য। এতে হাউযের বিস্তৃতি ও পাত্রের প্রাচুর্য দুটোই বোঝা যায়। হাদিসটি পড়লে কিয়ামতের দিনের এক বিশেষ দৃশ্য মনে আসে, যেখানে নবী صلى الله عليه وسلم-এর হাউয একটি বড় বিষয় হিসেবে এসেছে। আমরা এর বাইরে অতিরিক্ত কথা না বাড়িয়ে হাদিসের ভাষার মধ্যেই থাকি। হাউযে কাউসার সম্পর্কে জানতে চাইলে এই বর্ণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে দূরত্ব ও পাত্র—দুই দিকই পরিষ্কারভাবে এসেছে। তারকারাজির তুলনা শ্রোতার মনে প্রশস্ততা ও প্রাচুর্যের ধারণা দেয়, কিন্তু আমরা হাদিসের ভাষাতেই সীমাবদ্ধ থাকি। এসব বর্ণনা মুমিনকে হাউযের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে এবং আখিরাতের প্রস্তুতিকে জীবনের অংশ করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাউযে কাউসারের পরিমাণ খুব বিস্তৃত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- তার পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের তারকারাজির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- আখিরাতের বিষয়ে হাদিসের ভাষা অনুযায়ী বিশ্বাস রাখা দরকার।
- বড় নেয়ামতের কথা শুনে আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।
