৪৪/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৪১ - আবূ বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ব
আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাঃ)-এর মর্যাদা।
আবূ বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা: দুনিয়ার বদলে আল্লাহর নিকট যা আছে
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫৪১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫৪১
حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ، جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالَ: «إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ، وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ» فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ: فَدَيْنَاكَ بِأَبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا. فَعَجِبْنَا لَهُ. وَقَالَ النَّاسُ: انْظُرُوا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ، يُخَيَّرُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، عَنْ عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ، وَهُوَ يَقُولُ: فَدَيْنَاكَ بِأَبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا. فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ هُوَ الْمُخَيَّرَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ هُوَ أَعْلَمَنَا بِهِ. وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبَا بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا مِنْ أُمَّتِي لَا تَتَّخِذُتُ أَبًا بَكْرًا، إِلَّا خِلَّةَ الْإِسْلَامِ. لَا يَبْقِينَ فِي الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلَّا خَوْخَةُ أَبِي بَكْرٍ».
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) মিম্বরে বসলেন এবং বললেন, আল্লাহ্ তার এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেয়ার অধিকার দিয়েছেন। তার একটি হল দুনিয়ার ভোগ-বিলাস আর একটি হল আল্লাহ্র নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে বান্দা আল্লাহ্র কাছে যা রয়েছে তাই পছন্দ করলেন। একথা শুনে, আবূ বকর (রাঃ) কেঁদে ফেললেন, এবং বললেন, আমাদের পিতা-মাতাকে আপনার জন্য কুরবানী করলাম। তাঁর অবস্থা দেখে আমরা বিস্মিত হলাম।লোকেরা বলতে লাগল, এ বৃদ্ধের অবস্থা দেখ, রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ্ ভোগ-সম্পদ দেওয়ার এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ দুইয়ের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এ বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম। রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)-ই হলেন সেই ইখতিয়ার প্রাপ্ত বান্দা। আর আবূ বকর (রাঃ)-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি।রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন তিনি হলেন আবূ বকর (রাঃ)। যদি আমি আমার উম্মতের কোন ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবূ বকর (রাঃ) এর দরজা ছাড়া অন্য কারো দরজা খোলা থাকবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৩ আনসারগণের মর্যাদা, অধ্যায় ৪৫, হাঃ ৩৯০৪; মুসলিম, পর্ব ৪৪; সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ১, হাঃ নং ২৩৮২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। রাসূলাল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) মিম্বরে বসে বলেন, আল্লাহ এক বান্দাকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস আর আল্লাহর কাছে যা আছে—এই দুইটির মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। সেই বান্দা আল্লাহর কাছে যা আছে তা পছন্দ করেছেন। সাধারণ সাহাবীরা কথার গভীর ইশারা তখন বুঝতে পারেননি, কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) বুঝে কেঁদে ফেলেন। তাই বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি বুঝসম্পন্ন ব্যক্তি। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গ ও সম্পদের ইহসানের কথা বলেন। তিনি জানান, উম্মতের কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু করলে আবূ বকরকেই করতেন; তবে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আছে। মসজিদের দরজার কথাও তাঁর বিশেষ মর্যাদাকে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার ভোগের চেয়ে আল্লাহর নিকট যা আছে, সেটিই মুমিনের কাছে বেশি মূল্যবান হওয়া উচিত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার গভীর অর্থ বুঝতে আবূ বকর (রাঃ)-এর বিশেষ জ্ঞান প্রকাশ পেয়েছে।
- সঙ্গ, সম্পদ ও বিশ্বস্ত সহায়তা ইসলামের কাজে বড় ইহসান হিসেবে গণ্য হয়।
- ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক ঈমানদারদের মাঝে সম্মান ও ভালোবাসা তৈরি করে।
