৪৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬২২ - হাতিব রাঃ, সত্য কথা ও বদরের মর্যাদা
বদর যুদ্ধের শহীদদের মর্যাদা এবং হাতিব বিন আবি বালতা (রাঃ)-এর কাহিনী।
বদরের মর্যাদা: হাতিব রাঃ-এর ঘটনায় ন্যায়বিচারের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬২২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬২২
حديث عَلِيٍّ رضي الله عنه، قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَا وَالزُّبَيْرَ وَالْمِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ قَالَ: انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ، فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةَ، وَمَعَهَا كِتَابٌ، [ص: 168] فَخُذُوهُ مِنْهَا فَانْطَلَقْنَا، تَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى الرَّوْضَةِ فَإِذَا نَحْنُ بِالظَّعِينَةِ فَقُلْنَا: أَخْرِجِي الْكِتَابَ فَقَالَتْ: مَا مَعِي مِنْ كِتَابٍ فَقُلْنَا: لَتُخْرِجَنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَنُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا فِيهِ: مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ، إِلَى أُنَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ، يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمْرِ رَسولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا حَاطِبُ مَا هذَا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ لاَ تَعْجَلْ عَلَيَّ إِنِّي كُنْتُ امْرَءًا مُلْصَقًا فِي قُرَيْشٍ، وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهَا وَكَانَ مَنْ مَعَكَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ، لَهُمْ قَرَابَاتٌ بِمَكَّةَ يَحْمُونَ بِهَا أَهْلِيهِمْ وَأَمْوَالهُمْ؛ فَأَحْبَبْتُ، إِذ فَاتَنِي ذَلِكَ مِنَ النَّسَبِ فِيهِمْ، أَنْ أَتَّخِذَ عِنْدَهُمْ يَدًا يَحْمُونَ بِهَا قَرَابَتِي وَمَا فَعَلْتُ كُفْرًا وَلاَ ارْتِدَادًا، وَلاَ رِضًا بِالْكُفْرِ بَعْدَ الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ صَدَقَكُمْ فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللهِ دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَ هذَا الْمُنَافِقِ قَالَ: إِنَّهُ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا، وَمَا يُدْريكَ لَعَلَّ اللهَ أَنْ يَكُونَ قَدِ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ، فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে এবং যুবায়র ও মিকদাদ ইব্নু আসওয়াদ (রাঃ)-কে পাঠিয়ে বললেন, ‘তোমরা খাখ্ বাগানে যাও। সেখানে তোমরা এক মহিলাকে দেখতে পাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে, তোমরা তার কাছ থেকে তা নিয়ে আসবে।’ তখন আমরা রওনা দিলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদের নিয়ে দ্রুত বেগে চলছিল।অবশেষে আমরা উক্ত খাখ্ নামক বাগানে পৌঁছে গেলাম এবং সেখানে আমরা মহিলাটিকে দেখতে পেলাম। আমরা বললাম, ‘পত্র বাহির কর।’ সে বলল, ‘আমার নিকট তো কোন পত্র নেই।’ আমরা বললাম, ‘তুমি অবশ্যই পত্র বের করে দিবে, নচেৎ তোমার কাপড় খুলতে হবে।’ তখন সে তার চুলের খোঁপা থেকে পত্রটি বের করে দিল। আমরা তখন সে পত্রটি নিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট হাজির হলাম। দেখা গেল, তা হাতিব ইব্নু বালতাআ (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে মাক্কাহর কয়েকজন মুশরিকের প্রতি লেখা হয়েছে। যাতে তাদেরকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কোন পদক্ষেপ সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়েছে।তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘হে হাতিব! এ কী ব্যাপার?’ তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার ব্যাপারে কোন তড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আসলে আমি কুরাইশ বংশোদ্ভূত নই। তবে তাদের সঙ্গে মিশে ছিলাম। আর যারা আপনার সঙ্গে মুহাজিরগণ রয়েছেন, তাদের সকলেরই মাক্কাহবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে তাঁদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপদ। তাই আমি চেয়েছি, যেহেতু আমার বংশগতভাবে এ সম্পর্ক নেই, কাজেই আমি তাদের প্রতি এমন কিছু অনুগ্রহ দেখাই, যদ্দ্বারা অন্তত তারা আমার আপনজনদের রক্ষা করবে। আর আমি তা কুফরী কিংবা মুরতাদ হওয়ার উদ্দেশ্যে করিনি এবং কুফরীর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণেও নয়।’আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘হাতিব তোমাদের নিকট সত্য কথা বলছে।’ তখন ‘উমর (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই।’ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তোমার হয়ত জানা নেই, আল্লাহ্ তা‘আলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের ব্যাপারে অবহিত আছেন। তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমার যা ইচ্ছে আমল কর। আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৪১, হাঃ ৩০০৭; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ৩৬, হাঃ ২৪৯৪
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাতিব ইবনু আবূ বালতাআ রাঃ-এর একটি গুরুতর ঘটনার কথা এসেছে। রাসূলাল্লাহ صلى الله عليه وسلم আলী, যুবায়র ও মিকদাদ রাঃ-কে একটি পত্র আনতে পাঠালেন। পত্রটি মক্কার কিছু মুশরিকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। হাতিব রাঃ নিজের কারণ ব্যাখ্যা করে বললেন, তিনি কুফর বা ইসলাম ত্যাগের উদ্দেশ্যে তা করেননি। তাঁর পরিবারকে নিরাপদ রাখার চিন্তা থেকে তিনি এমন করেছিলেন। রাসূলাল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর কথা শুনে বললেন, হাতিব সত্য বলছে। উমার রাঃ কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم বদর যুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, বড় ভুলের ক্ষেত্রেও মানুষের নিয়ত, পূর্বের সৎ কাজ এবং সত্য বক্তব্য বিবেচনা করা দরকার। হাদিসটি বদরের সাহাবীদের মর্যাদা এবং বিচার করার আগে কথা শোনার গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো ঘটনার বিচার করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কথা শোনা জরুরি।
- ভুল কাজের পেছনে উদ্দেশ্য কী ছিল, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
- বদর যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদা ছিল।
- সত্য কথা বলা কঠিন অবস্থাতেও মানুষের জন্য উপকারের কারণ হতে পারে।
