৪৫/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৫৩ - পিতামাতার খেদমত ও জিহাদের শিক্ষা
মাতাপিতার প্রতি সদাচরণ এবং তাঁরা দুইজনই এর বেশি হকদার।
পিতামাতার খেদমত: জিহাদের অনুমতি চাওয়া ব্যক্তির হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬৫৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬৫৩
حَديثُ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما، قَالَ: جاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَأْذَنَهُ فِي الجِهَادِ. فَقَالَ: «أَحَيُّ وَالِدَاكَ؟» قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: «فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ».
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে জিহাদে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বললেন, তোমার পিতামাতা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেন, ‘তবে তাদের খিদমতের চেষ্টা কর।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৩৮, হাঃ ৩০০৪; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ১, হাঃ ২৫৪৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইল। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পিতামাতা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, তবে তাঁদের খিদমতের চেষ্টা কর। হাদিসটি পিতামাতার খেদমতের গুরুত্ব খুব সহজভাবে তুলে ধরে। এখানে জিহাদের মতো বড় কাজের অনুমতি চাওয়া হলেও নবী صلى الله عليه وسلم তার অবস্থার দিকে তাকিয়ে পিতামাতার সেবাকে সামনে এনেছেন। তাই প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব তার নিজের অবস্থা অনুযায়ী বুঝতে হয়। মা-বাবা জীবিত থাকলে তাঁদের সেবা, প্রয়োজন দেখা এবং ভালো আচরণ করা বড় নেক কাজের পথ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পিতামাতা জীবিত থাকলে তাঁদের খেদমত বড় দায়িত্ব।
- ভালো কাজের আগে নিজের পারিবারিক দায়িত্বও দেখা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم প্রশ্ন করে ব্যক্তির অবস্থা বুঝে উত্তর দিয়েছেন।
- মা-বাবার সেবা দ্বীনী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
