৪৫/৪৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৮৯ - সন্তান হারানোর শোকে সান্ত্বনা
সন্তানের মৃত্যুতে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণের ফাযায়েল।
সন্তান মারা গেলে সান্ত্বনার হাদিস: তিন নাবালিগ সন্তানের বিষয়ে শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬৮৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬৮৯
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ يَمُوتُ لِمُسْلِمٍ ثَلاَثَة مِنَ الْوَلَدِ، فَيَلِجُ النَّارَ، إِلاَّ تَحِلَّةَ الْقَسَمِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালিগ) সন্তান মারা গেল, তবুও সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, এমন হবে না। তবে কেবল কসম পূর্ণ হওয়ার পরিমাণ পর্যন্ত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৩: জানাযা, অধ্যায় ৬, হাঃ ১২৫১; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৪৭, হাঃ ২৬৩২
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সন্তান হারানোর শোকের মধ্যে সান্ত্বনা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো মুসলিমের তিনটি নাবালিগ সন্তান মারা গেলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে—এমন হবে না; তবে কসম পূর্ণ হওয়ার পরিমাণ পর্যন্ত। হাদিসটি এমন বাবা-মায়ের জন্য গভীর সান্ত্বনার কথা বলে, যারা সন্তানের মৃত্যুতে কঠিন কষ্টের ভেতর দিয়ে যায়। সন্তান হারানো মানুষের জীবনের খুব বড় পরীক্ষা। এই বর্ণনায় নবী (صلى الله عليه وسلم) সেই কষ্টের মধ্যে আশার দরজা দেখিয়েছেন। তবে হাদিসটি আমাদের অতিরঞ্জিত দাবি করতে শেখায় না; বরং আল্লাহর রহমত ও সান্ত্বনার কথা মনে করায়। একজন মুমিন শোকের সময়ও আল্লাহর দিকে ফিরে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তান হারানো বড় কষ্ট, কিন্তু মুমিনের জন্য এতে সান্ত্বনার কথা এসেছে।
- নাবালিগ সন্তান হারানো বাবা-মায়ের জন্য রহমতের আশা আছে।
- শোকের সময় আল্লাহর রহমতের কথা মনে রাখা দরকার।
- হাদিসের ভাষা মেনে ভারসাম্য রেখে কথা বলা উচিত।
