৪৮/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭১৮ - মৃত্যুর জন্য দু‘আ থেকে বিরত থাকা
কোন বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা না করা।
মৃত্যুর জন্য দু‘আ নয়: কষ্টের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নিষেধাজ্ঞা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭১৮
حديث خَبَّابٍ عَنْ قَيْسٍ، قَالَ: أَتَيْتُ خَبَّابًا، وَقَدِ اكْتَوَى سَبْعًا فِي بَطْنِهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: لَوْلاَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ، لَدَعَوْتُ بِهِ
কায়স (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি খাব্বাব (রাঃ)-এর নিকট গেলাম তিনি তাঁর পেটে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ যদি নবী (ﷺ) আমাদের মৃত্যুর জন্য দোয়া করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি এর জন্য দোয়া করতাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ৩০, হাঃ ৬৩৫০; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৪, হাঃ ২৬৮০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মৃত্যুর জন্য দু‘আ থেকে বিরত থাকা। বর্ণনাকারী খাব্বাব (রাঃ)-এর কাছে যান। তিনি পেটে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন, অর্থাৎ তিনি কষ্টের অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বলেন, যদি নবী (صلى الله عليه وسلم) আমাদের মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি এর জন্য দু‘আ করতাম। এই বর্ণনা দেখায়, সাহাবীরা কঠিন কষ্টেও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে সামনে রাখতেন। হাদিসটি ১৭১৭ নম্বর হাদিসের শিক্ষাকে আরও বাস্তবভাবে বোঝায়। বিপদ, রোগ বা কষ্টে মানুষ দুর্বল হতে পারে। কিন্তু মুসলিমের পথ হলো সরাসরি মৃত্যু চাওয়া নয়; বরং আল্লাহর কাছে কল্যাণ, ধৈর্য ও উত্তম পরিণতি চাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন কষ্টেও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নিষেধ মানা সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য ছিল।
- মৃত্যুর জন্য দু‘আ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- রোগ বা ব্যথার সময় ধৈর্য ও আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া দরকার।
- ব্যক্তিগত কষ্ট শরীয়তের নির্দেশ মানা থেকে বিরত করার কারণ নয়।
