৪৮/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭২৩ - রব্বানা আতিনা দোয়ার গুরুত্ব
“হে আল্লাহ! এ দুনিয়ার কল্যাণ দান কর, আখিরাতের কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর” এ দোয়ার ফাযায়েল।
রব্বানা আতিনা দোয়া: দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাওয়ার সহজ পথ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭২৩
حديث أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اللهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) অধিকাংশ সময়ই এ দোয়া পড়তেনঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের অগ্নিযন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর” (সূরা আল-বাকারাহ ২/২০১)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ৫৫, হাঃ ৬৩৮৯; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৯, হাঃ ২৬৯০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দোয়া। আনাস (রাঃ) জানাচ্ছেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) অধিকাংশ সময় যে দোয়া পড়তেন তা হলো—হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর। এই দোয়া খুব ছোট, কিন্তু এর চাওয়া অনেক বড়। এতে দুনিয়ার ভালো, আখিরাতের ভালো এবং জাহান্নামের আযাব থেকে নিরাপত্তা—তিনটি বিষয় একসাথে আছে। হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এই দোয়াটি বেশি পড়তেন। তাই একজন মুসলিম নিজের নিয়মিত দোয়ায় এটি রাখতে পারে। তবে দোয়াটি পড়ার সময় অর্থ বুঝে, বিনয় নিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়ার মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জীবনের কল্যাণ চাওয়া যায়।
- জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়া নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়ার অংশ ছিল।
- ছোট দোয়াও অর্থের দিক থেকে অনেক গভীর হতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) যে দোয়া বেশি পড়তেন, তা শেখা ও আমলে রাখা উপকারী।
