৪৮/২৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৪২ - দোয়া কবুলে ধৈর্যের শিক্ষা
দোয়াকারী যদি ‘আমি দোয়া করেছি কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি’ বলে তাড়াহুড়া না করে তাহলে তার দোয়া কবুল করা হয়।
দোয়া কবুল: তাড়াহুড়া নয়, ধৈর্য রাখার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৪২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৪২
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ يَقُولُ: دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবূল হয়ে থাকে যদি সে তাড়াহুড়া না করে। আর বলে যে, আমি দোয়া করলাম। কিন্তু আমার দোয়া তো কবূল হলো না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ২২, হাঃ ৬৩৪০; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিক্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ২৪, হাঃ ২৭৩৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দোয়া কবুল। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। এখানে তাড়াহুড়ার উদাহরণও বলা হয়েছে—কেউ বলে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না। এই কথার মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও অধৈর্য আছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, দোয়া শুধু চাওয়ার নাম নয়; দোয়ার সঙ্গে ধৈর্য, ভরসা ও আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা থাকা দরকার। দোয়া কবুলের সময় ও ধরন আল্লাহর হাতে। তাই দোয়া করার পর দ্রুত ফল না দেখলেও বান্দার উচিত দোয়া ছেড়ে না দেওয়া। সহজ ভাষায়, মুমিন দোয়া করবে, অপেক্ষা করবে এবং আল্লাহর উপর আস্থা রাখবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়া করার পর তাড়াহুড়া করে হতাশ হওয়া ঠিক নয়।
- দোয়া কবুলের বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছা ও জ্ঞানের সঙ্গে জড়িত।
- বারবার দোয়া করা এবং ধৈর্য রাখা মুমিনের সুন্দর আচরণ।
- ‘আমার দোয়া কবুল হলো না’—এমন হতাশার কথা থেকে বেঁচে থাকা দরকার।
