৫১/১৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮২৬ - বদরের নিহতদের সঙ্গে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা
মৃত ব্যক্তিকে জান্নাতে বা জাহান্নামে তার স্থান দেখানো হয়, কবরের শাস্তির প্রমাণ এবং তা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা।
বদরের নিহতদের শোনা: আল্লাহর ওয়াদার সত্যতা নিয়ে হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮২৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮২৬
حديث أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَمَرَ يَوْمَ بَدْرٍ بِأَرْبَعَةٍ وَعِشْرِينَ رَجُلاً مِنْ صَنَادِيدِ قُرَيْشٍ، فَقُذِفُوا فِي طَوِيٍّ مِنْ أَطْوَاءِ بَدْرٍ، خَبِيثٍ مُخْبِثٍ وَكَانَ إِذَا ظَهَرَ عَلَى قَوْمٍ أَقَامَ بِالْعَرْصَةِ ثَلاَثَ لَيَالٍ فَلَمَّا كَانَ بِبَدْرٍ، الْيَوْمَ الثَّالِثَ، أَمَرَ بَرَاحِلَتِهِ فَشُدَّ عَلَيْهَا رَحْلُهَا ثُمَّ مَشَى وَاتَّبَعَهُ أَصْحَابُهُ وَقَالُوا مَا نُرَى يَنْطَلِقُ إِلاَّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ حَتَّى قَامَ عَلَى شَفَةِ الرَّكِيِّ فَجَعَلَ يُنَادِيهِمْ بِأَسْمَائِهِمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِهِمْ:يَا فُلاَنُ بْنَ فُلاَنٍ وَيَا فُلاَنُ بْنَ فُلاَن أَيَسُرُّكُمْ أنَّكُمْ أَطَعْتُمُ اللهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّا قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا، فَهَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللهِ [ص: 299] مَا تُكَلِّمُ مِنْ أَجْسَادٍ لاَ أَرْوَاحَ لَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ
আবূ তালহা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বাদরের দিন আল্লাহ্র নবী (ﷺ)-এর নির্দেশে চব্বিশজন কুরাইশ সর্দারের লাশ বাদর প্রান্তরের একটি নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কূপে নিক্ষেপ করা হল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন দলের বিরুদ্ধে জয় লাভ করলে সে স্থানের পার্শ্বে তিন দিন অবস্থান করতেন। বাদর প্রান্তরে অবস্থানের পর তৃতীয় দিনে তিনি তাঁর সাওয়ারী প্রস্তুত করার আদেশ দিলেন, সাওয়ারীর জিন শক্ত করে বাঁধা হল।এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পদব্রজে অগ্রসর হলে সাহাবীগণও তাঁর পেছনে পেছনে চললেন। তাঁরা বলেন, আমরা ভাবছিলাম, কোন প্রয়োজনে তিনি কোথাও যাচ্ছেন। অতঃপর তিনি ঐ কূপের কিনারে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং কূপে নিক্ষিপ্ত ঐ নিহত ব্যক্তিদের নাম ও তাদের পিতার নাম ধরে ডাকতে শুরু করলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক, হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমরা কি এখন অনুভব করতে পারছ যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য তোমাদের জন্য পরম খুশীর বিষয় ছিল? আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমরা তো তা সত্য পেয়েছি, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তোমরাও তা সত্য পেয়েছ কি?বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)! আপনি আত্মাহীন দেহগুলোর সঙ্গে কী কথা বলছেন? নবী (ﷺ) বললেন, ঐ মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আমি যা বলছি তা তাদের চেয়ে তোমরা অধিক শুনতে পাচ্ছ না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৮, হাঃ ৩৯৭৬; মুসলিম, পর্ব ৫১: জান্নাত, তার বিবরণ, আনন্দ-উপভোগ ও তার বাসিন্দা, অধ্যায় ১৭, হাঃ ২৮৭৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বদরের দিনের পরের একটি ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশে কুরাইশের চব্বিশজন সর্দারের লাশ বদরের একটি কূপে ফেলা হয়। তিনি কোনো দলের উপর জয়ী হলে সেখানে তিন দিন অবস্থান করতেন। তৃতীয় দিনে তিনি কূপের কিনারে দাঁড়িয়ে নিহতদের নাম ও তাদের পিতার নাম ধরে ডাকলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য তাদের জন্য ভালো হতো কি না, এবং তাঁর প্রতিপালকের ওয়াদা তিনি সত্য পেয়েছেন। উমার (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, আত্মাহীন দেহের সঙ্গে কীভাবে কথা বলা হচ্ছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তাঁর কথা তারা শুনছে; সাহাবীরা তাদের চেয়ে বেশি শুনতে পাচ্ছেন না। এই হাদিসে বদর, আল্লাহর ওয়াদার সত্যতা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার একটি বিশেষ ঘটনা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বদরের ঘটনার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) নিহত কুরাইশ নেতাদের ডেকেছিলেন।
- হাদিসে আল্লাহর ওয়াদার সত্যতা নিয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বক্তব্য এসেছে।
- উমার (রাঃ) প্রশ্ন করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তার জবাব দিয়েছেন।
- এই ঘটনা বদরের পরিণতি ও আখিরাতের শিক্ষা মনে করায়।
