৫২/১৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৪৬ - কুরাইশের কিছু যুবকের ফিতনা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা
কেয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তি বলবে, মৃতের জায়গায় যদি আমি থাকতাম (বালা মুসিবতের কারণে)।
ফিতনার সময় নিরাপদ থাকা: কুরাইশের কিছু লোক সম্পর্কে সতর্কতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৪৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৪৬
حديث أَبِي هُرَيْرَة رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُهْلِكُ النَّاسَ هذَا الْحَيُّ مِنْ قُرَيْشٍ قَالُوا: فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ: لَوْ أَنَّ النَّاسَ اعْتَزَلُوهُمْ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কুরাইশ গোত্রের এ লোকগুলি (যুবকগণ) মানুষের ধ্বংস ডেকে আনবে। সাহাবীগণ বললেন, তখন আমাদেরকে আপনি কী করতে বলেন? তিনি বললেন, মানুষেরা যদি এদের সংসর্গ ত্যাগ করত তবে ভালই হত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬১: মর্যাদা ও গুণাবলী, অধ্যায় ২৫, হাঃ ৩৬০৪; মুসলিম, পর্ব ৫২ : ফিতনা এবং তার অশুভ আলামতসমূহ, অধ্যায় ১৮, হাঃ ২৯১৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) কুরাইশ গোত্রের কিছু লোক সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, এ লোকগুলো মানুষের ধ্বংস ডেকে আনবে। সাহাবীগণ জানতে চাইলেন, তখন কী করা উচিত। উত্তরে তিনি বললেন, মানুষ যদি এদের সংসর্গ ত্যাগ করত তবে ভালো হতো। হাদিসে সব কুরাইশকে দোষ দেওয়া হয়নি; নির্দিষ্টভাবে “এ লোকগুলি” বলা হয়েছে। তাই ব্যাখ্যায় পুরো গোত্রকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, ফিতনার সময় খারাপ প্রভাব, অন্যায় নেতৃত্ব বা ক্ষতিকর দলের কাছে ঘেঁষা বিপদ ডেকে আনতে পারে। নিরাপদ থাকার একটি পথ হলো অন্যায় ও ফিতনা থেকে দূরত্ব রাখা। এই বর্ণনা আমাদের মুখ, সম্পর্ক ও অবস্থান বাছাই করতে সতর্ক করে। তাই হাদিসটি পড়ার সময় মূল শব্দগুলো ধরে রাখা, নিজের ঈমান যাচাই করা এবং অকারণ বাড়তি ব্যাখ্যা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনার মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা নিরাপত্তার কারণ হতে পারে।
- কোনো গোত্র বা জাতিকে সামগ্রিকভাবে দোষ দেওয়া ঠিক নয়।
- অন্যায় প্রভাব দেখলে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা দরকার।
