১/১০. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২০ - আন্তরিক শাহাদাত ও জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা

যে ব্যক্তি নিঃসন্দেহ ঈমান সহকারে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নাম তার জন্য হারাম করে দেয়া হবে।

আন্তরিক শাহাদাত: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও জাহান্নাম হারামের হাদিস

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২০

حديث أَنَسِ بْنِ مالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمُعاذٌ رَديفُهُ عَلى الرَّحْلِ، قَالَ: يا مُعاذُ بْنَ جَبَلٍ قَالَ: لَبَّيْكَ يا رَسُولَ اللهِ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: يا مُعاذُ قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ وَسَعْدَيْكَ ثَلاثًا، قَالَ: ما مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لا إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ إِلاَّ حَرَّمَهُ اللهُ عَلى النَّارِ قَالَ: يا رَسولَ اللهِ أَفَلا أُخْبِرُ بِهِ النَّاسَ فَيَسْتَبْشِروا قَالَ: إِذًا يَتَّكِلُوا وَأَخْبَرَ بِها مُعاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ تَأَثُّما

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা মু‘আয (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর পিছনে সওয়ারীতে ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন, হে মু‘আয ইবনু জাবাল! মু‘আয (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সার্বিক সহযোগিতা ও খিদমাতে হাজির আছি। তিনি ডাকলেন, মু‘আয! মু‘আয (রাঃ) উত্তর দিলেন, আমি হাজির, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ এবং প্রস্তুত।’ তিনি আবার ডাকলেন, মু‘আয। তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি হাজির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং প্রস্তুত’। এরূপ তিনবার করলেন।অতঃপর বললেনঃ যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহ্‌র রাসূল’- তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। মু‘আয (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে?’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তারা এর উপরই ভরসা করবে।’ মু‘আয (রাঃ) (জীবন ভর এ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি) মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন যাতে (ইলম গোপন রাখার) গুনাহ না হয়।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩: আল-‘ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান), অধ্যায় ৪৯, হাঃ ১২৮; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ১০, হাঃ ৩২

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) মু‘আয (রাঃ)-কে কয়েকবার ডাকেন। তারপর বলেন, যে কোনো বান্দা অন্তর থেকে সত্যভাবে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর রাসূল, তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। মু‘আয (রাঃ) মানুষকে এ সুসংবাদ জানাতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাহলে তারা এর উপরই ভরসা করবে। পরে মু‘আয (রাঃ) মৃত্যুর সময় হাদিসটি জানান, যাতে ইলম গোপন রাখার গুনাহ না হয়। এই হাদিসে আন্তরিক শাহাদাতের গুরুত্ব, সুসংবাদ এবং আমলে ঢিলে না দেওয়ার সতর্কতা একসাথে এসেছে। তাই কালিমা শুধু মুখের বাক্য নয়; হাদিসে ‘অন্তর থেকে সত্যভাবে’ বলার কথা এসেছে। একই সঙ্গে জ্ঞান পৌঁছানোর দায়িত্বও দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শাহাদাত সত্যভাবে অন্তর থেকে হওয়া দরকার।
  • আল্লাহর একত্ব ও মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم)-এর রাসূলত্বের সাক্ষ্য এখানে মূল বিষয়।
  • সুসংবাদ শুনে আমলে অলস হয়ে পড়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
  • ইলম গোপন না করার বিষয়ে মু‘আয (রাঃ)-এর সতর্কতা দেখা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন