৪/৩২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৫৭ - ওহী নাজিলের সময় নবীজির মনোযোগ
মনোযোগ সহকারে কিরাআত শ্রবণ।
ওহী নাজিলের আদব: শুনে অনুসরণ করার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ২৫৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৫৭
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ (لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ) قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَزَلَ جِبْرِيلُ بِالْوَحْيِ وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ بِهِ لِسَانَهُ وَشَفَتَيْهِ فَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ، وَكَانَ يُعْرَفُ مِنْهُ، فَأَنْزَلَ اللهُ الآيَةَ الَّتِي فِي ﴾لاَ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ﴿ (لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَه وَقُرْآنَهُ)قَالَ: عَلَيْنَا أَنْ نَجْمَعَهُ فِي صَدْرِكَ، وَقُرْآنَهُ (فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ) فَإِذَا أَنْزَلْنَاهُ فَاسْتَمِعْ (ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَه) عَلَيْنَا أَنْ نُبَيِّنَهُ [ص: 93] بِلِسَانِكَ قَالَ: فَكَانَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ أَطْرَقَ، فَإِذَا ذَهَبَ قَرَأَهُ كَمَا وَعَدَهُ اللهُ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র বাণীঃ لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, জিব্রীল (আঃ) যখন ওহী নিয়ে আসতেন তখন রাসূল তাঁর জিহ্বা ও ঠোঁট দুইটো দ্রুত নাড়তেন। এটা তাঁর জন্য কষ্টকর হত এবং তাঁর চেহারা দেখেই বোঝা যেত।তাই আল্লাহ্ তা‘আলা لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ “তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করবে না; এ কোরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই” নাযিল করলেন।এতে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেনঃ এ কোরআনকে আপনার বক্ষে সংরক্ষণ করা ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর, অর্থাৎ আমি যখন ওহী নাযিল করি তখন তুমি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর। অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ তোমার মুখে তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই। রাবী বলেন, এরপর জিব্রীল (আঃ) চলে গেলে আল্লাহ্র ওয়াদা ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ মুতাবিক তিনি তা পাঠ করতেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৭৫, হাঃ ৪৯২৯; মুসলিম, পর্ব ৪ : সালাত, অধ্যায় ৩২, হাঃ ৪৪৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা কিয়ামাহর আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে। জিবরীল (আঃ) ওহী নিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তা দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা ও ঠোঁট নড়াতেন। এতে তাঁর কষ্ট হতো এবং তা চেহারায় বোঝা যেত। তখন আল্লাহ আয়াত নাজিল করলেন: তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা নাড়বেন না; কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর। এরপর তাঁকে বলা হলো, যখন পাঠ করা হয়, তখন সে পাঠের অনুসরণ করুন। অর্থাৎ ওহী নাজিলের সময় মনোযোগ দিয়ে শুনুন। পরে এর ব্যাখ্যা ও পাঠ করানোও আল্লাহর দায়িত্ব। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো ওহীর প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর গভীর যত্ন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআন সংরক্ষণের নিশ্চয়তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ওহী আয়ত্ত করতে গভীর যত্ন নিতেন।
- আল্লাহ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব নিজের বলে জানিয়েছেন।
- ওহী নাজিলের সময় মনোযোগ দিয়ে শুনতে বলা হয়েছে।
- জিবরীল (আঃ) চলে গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী তা পাঠ করতেন।
